ঢাকা, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ মাঘ ১৪২৯, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে ‘গার্ড অব অনার’



গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে ‘গার্ড অব অনার’

দেশ বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাকে রাষ্ট্রীয় এই সম্মান জানানো হয়।

এ সময় কিংবদন্তি এই শিল্পীকে এক নজর দেখতে ছুটে আসেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। ছুটে আসেন ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরাও। শোবিজের তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, কুমার বিশ্বজিৎ, মনির খান, নকীব খান, শহীদুল্লাহ ফরায়জী, আসিফ ইকবাল, শেখ সাদী খান, মানাম আহমেদ, ইমন সাহা, নায়ক উজ্জ্বলসহ অনেকে। এ ছাড়াও সরকার দলীয় সংগঠন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সেখানে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মেয়ে গায়িকা দিঠি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার আব্বুকে আপনারা দলীয়ভাবে বিচার করবেন না। আব্বু কোনো দলের না। তিনি সার্বজনীন- দেশের সম্পদ ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সেভাবেই মূল্যয়ন করেছেন। তিনি বলেন, আব্বু আমাকে বলেছেন, আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। রাষ্ট্রের অন্যতম সেরা ‘একুশে পদক’সহ কত যে পুরস্কার পেয়েছি তার কোনো হিসেব নেই। কিন্তু আমার একটাই আফসোস আছে মা। মৃত্যুর আগে যদি স্বাধীনতা পুরস্কারটা পেতাম তাহলে আমার জীবনের কোনো অপূর্ণতা থাকতো না। আমার বাবার সেই ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানাই। কাঁন্নাজড়িত কণ্ঠে দিঠি আরও যোগ করেন, আমার বাবা মানুষের এত প্রিয় ছিলেন। জীবনে কখনো কাউকে তার সমালোচনা করতে দেখিনি। আমরা গর্বিত তার সন্তান হতে পারে। সবার কাছে আমার বাবার জন্য দোয়া চাই।

শ্রদ্ধা জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, গাজী ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল অন্যরকম। তার লেখা হাজার হাজার গানের মধ্যে ৬-৭ হাজার গান আমি নিজেই গেয়েছি। আমাদের মধ্যে একটা টিম ওয়ার্কিং ছিল। আমি তার জন্য আল্লাহর কাছে জান্নাতের সর্বোচ্চ জায়গা কামনা করি।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মরদেহ নেওয়া হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি)। সেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর তার মরদেহ নেওয়া হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে গুলশানের আজাদ মসজিদে তৃতীয় জানাজা দেয়া হয়। পরে গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

দেশ বরেণ্য গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ার গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। নিজ বাসার বাথরুমে যাওয়ার সময় জ্ঞান হারান গুণী এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। এরপর সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি স্ট্রোক করেছেন।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার ১৯৪৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার তালেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে রেডিও পাকিস্তানে গান লেখা শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই নিয়মিত গান ও নাটক রচনা করেন। গানের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও চিত্রনাট্য রচনা করেও সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুতে দেশের শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার ২০ হাজারের বেশি গান লিখেছেন। সর্বকালের সেরা বাংলা গান নির্বাচনে বিবিসির জরিপে শীর্ষ ২০ গানের তিনটিই তার। একাধারে তিনি ছিলেন, গীতিকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক। বাংলা আধুনিক গানের পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা গাজী মাজহারুল আনোয়ার রোববার চিরবিদায় নিলেন; রেখে গেলেন অসংখ্য গান, যেগুলো এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।


   আরও সংবাদ