ঢাকা, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ মাঘ ১৪২৯, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

অডিও-ভিডিও ‘সুপার এডিটেড’ দাবি ছাত্রলীগ নেতার



অডিও-ভিডিও ‘সুপার এডিটেড’ দাবি ছাত্রলীগ নেতার

সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের ভাপতি সাকিবুল ইসলামের আপত্তিকর কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। একটি ভিডিওতে দেখা যায় ফেনসিডিল পান করছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। এবার সংবাদ সম্মেলন করে অডিও-ভিডিও দুটোই সুপার এডিটেড বলে দাবি করলেন এই দুই নেতা।

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আলোচিত এই দুই নিজেদেরকে ‌‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিও-ভিডিওসহ নানা বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তারা। রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর অলোকার মোড়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যৌথভাবে নিজেদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দেন তারা।

কয়েকদিন আগে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ‘সুপার এডিটেড’ বলে দাবি করেছেন সভাপতি সাকিবুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমার বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণার মামলাটিও ষড়যন্ত্রমূলক। 

অপরদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন দাবি করেন, তিনি ফেনসিডিল নয়, কোমল পানীয় পান করছিলেন। এডিট করে ফেনসিডিলের ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। মাদক গ্রহণের ভিডিও সম্পর্কে জাকির হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমাকে ও সভাপতিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চলছে। সাংগঠনিক কাজে কাটাখালীতে এক আওয়ামী লীগ নেতার কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি অস্পষ্ট ভিডিও ধারণ করে আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের আবাসিক হলে এসি লাগিয়ে থাকেন না দাবি করে জাকির হোসেন বলেন, এসি লাগিয়ে থাকার বিষয়টি একেবারে মিথ্যা। যে কক্ষটি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে, সেটা আমার কক্ষ নয়। আমার কক্ষ নম্বর ২২৭। আর এসি আছে ২২৮ নম্বর কক্ষে। তাহলে কেন কলেজ কর্তৃপক্ষ আপনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন, এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এই নেতা।

ব্যক্তিগত সহকারী হতে না চাওয়ায় এক ছাত্রকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে এনে রাতভর নির্যাতনের বিষয়টিও জাকির হোসেন অস্বীকার করেন। রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নিজ দলীয় কর্মীকে মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই ছাত্রলীগ কর্মী একজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছিলেন। এ কারণে তাকে শাসন করেছি।

রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম একসময় ছাত্রদল করতেন এমন বিষয় অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার পরিবারের কেউ শিবির বা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তিনি রাজশাহী কলেজে ছাত্রদলের কোনও কমিটিতে ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে সে বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডহকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাকিবুল এক লাখ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। আদালতের বিচারক মো. লিটন হোসেন মামলা আমলে নিয়ে সমন জারি করেছেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। 

এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের নেতাদের ‘অপকর্ম’ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দফতর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


   আরও সংবাদ