ঢাকা, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ মাঘ ১৪২৯, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সীমান্তের ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা



সীমান্তের ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। গত এক মাস ধরে তুমব্রু সীমান্তের কাছে ক্রমাগত গুলিবর্ষণ ও মর্টার শেল নিক্ষেপের পর প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে ভাবছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনও সালমা ফেরদৌস বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৩০০ থেকে ৫০০ গজের মধ্যে প্রায় ৭০টি বাংলাদেশি পরিবার বসবাস করছে। সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা তাদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছি। ঘুমধুম সীমান্তে বসবাসকারী ৩০০ পরিবারকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেয়া হবে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দিল মোহাম্মদ ভুট্টো জানান, শনিবার সকালে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত (১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা) গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যায়নি।

বাসিন্ধারা বলছেন, যে কোনো মুহূর্তে আবারও গুলি শুরু হতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেক এলাকাবাসী নিজ থেকেই সীমান্ত এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ঘুমধুম সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, ঘুমধুম সীমান্তে চার হাজার ২০০ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এই পয়েন্টে আশ্রয় নেয়ার পর থেকেই তারা নানা আতঙ্কে আছে। মিয়ানমার বারবার রোহিঙ্গাদের জিরো পয়েন্ট থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেছে। রোহিঙ্গারা এখন খুবই আতঙ্কিত। কিন্তু তারা এখনও জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছে। কি করতে হবে তারা তা জানে না।

জানা গেছে, ইতোমধ্যেই প্রায় ৩৫টি বাংলাদেশি পরিবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী, রাতাপালং, সোনারপাড়া, পালংখালী, টেকনাফ উপজেলার হোইকং এলাকায় তাদের আত্মীয়দের বাড়িতে চলে গেছে।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ দৌজা জানান, সীমান্তের জিরো পয়েন্টে জনগণ বা গোষ্ঠীর জন্য কমিশনারের কিছু করার সুযোগ নেই। অনেকেই স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা করছেন এবং সীমান্তে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জরুরি সেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছে। রোহিঙ্গারা জিরো পয়েন্টের বাইরে ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিলে তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করা সম্ভব।

ইউএনও সালমা বলেন, এছাড়া সীমান্তে উত্তেজনা থাকায় এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র উখিয়া উপজেলার ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখান থেকে শনিবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪৯৯ জন পরীক্ষার্থী।


   আরও সংবাদ