ঢাকা, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ চৈত্র ১৪২৯, ১০ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘চুপ না থাকলে ধর্ষণ করবে’



‘চুপ না থাকলে ধর্ষণ করবে’

তারা আমাকে মাটিতে ফেলে দেয়। একজন অফিসার আমার পিঠে তার বুট রাখে। সে আমার পেটে লাথি মারে, হাত বেঁধে ফেলে, আমাকে তুলে নিয়ে একটি ভ্যানে উঠিয়ে দেয়।" এভাবেই নিজের বর্ণনা দিচ্ছিলেন গত সপ্তাহে তেহরানে গ্রেফতার হওয়া একজন বিক্ষোভকারী।

মাহশা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের অবসানের দাবিতে মূলত নারীদের নেতৃত্বে ইরানের এবারের বিক্ষোভের সূত্রপাত। কিন্তু এক পর্যায়ে রাজপথের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তেহরানের রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ‘স্বৈরশাসক নিপাত যাক’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

ইরানে পুলিশি হেফাজতে তরুণী মাসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল বুধবার দেশটির একাধিক শহরে দাঙ্গা পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে চলমান এই বিক্ষোভে দেশটিতে আজ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬ হয়েছে। নরওয়ের অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) এ তথ্য জানিয়েছে। 

চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ঠিক কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; সে ব্যাপারে তেহরানের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে তেহরানের উত্তরে অবস্থিত মাজানদারান প্রদেশের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সেখানেই অন্তত ৪৫০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দেশটিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হচ্ছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সী মাসা আমিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল কুর্দিস্তান প্রদেশের সাকেজ থেকে রাজধানী তেহরানে আসেন। ‘অসভ্য’ পোশাক পরার অভিযোগে দেশটির ‘নীতি পুলিশ’ মাসাকে আটক করে। তিন দিন পর পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নির্যাতনে মাসার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে ইরানের মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা এই মৃত্যুর ন্যায়বিচার দাবি করেন। ২০১৯ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিশাল বিক্ষোভ হয়েছিল। এরপর এত বড় বিক্ষোভ আর হয়নি দেশটিতে। ইরান ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাসার মৃত্যুর বিচার চেয়ে বিক্ষোভ হচ্ছে।


   আরও সংবাদ