ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২০ জৈষ্ঠ্য ১৪২৯, ১২ রজব ১৪৪৪

ভারি বৃষ্টির আভাস, উপকূলবর্তী সব জেলায় বন্যার সম্ভাবনা



ভারি বৃষ্টির আভাস, উপকূলবর্তী সব জেলায় বন্যার সম্ভাবনা

অক্টোবর মাসের ৯ থেকে ১৫ তারিখ বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোতে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এই সময়ে তিস্তা নদী ও যমুনা নদীর উপকূলবর্তী জেলাগুলো বন্যা-কবলিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

কানাডার সাস্কাচেওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান,  বর্ষাকালের শুরুতে বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে বাংলাদেশ ও ভারতের স্থল ভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। ২০২২ সালে মৌসুমি বায়ু মে মাসের ৩০-৩১ তারিখে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। জুন মাসের ২য় সপ্তাহে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপর অবস্থান করে আবহাওয়া সম্পর্কিত ট্রাফিক জ্যামের সম্মুখীন হয়। যার কারণে ভারতের মেঘালয় রাজ্য রেকর্ড ব্রেকিং বৃষ্টিপাত হয়। পর-পর ৩ দিন (১৫, ১৬ ও ১৭ ই জুন, ২০২২) (৮০০ মিলিমিটার এর বেশি)। যার কারণে সিলেট বিভাগে সর্বকালের স্মরণীয় বন্যার সম্মুখীন হয়। সাধারণত মৌসুমি বায়ুর উত্তর-পশ্চিমমুখি যাত্রা শেষ হয় সেপ্টেম্বর মাসের ২য় সপ্তাহে পাকিস্তানের উপরে। সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে মৌসুমি বায়ুর বিপরীতমুখী যাত্রা শুরু হয় (Withdrawal of SW monsoon)। ২০২২ সালে মৌসুমি বায়ুর বিপরীতমুখী যাত্রা শুরু হয়েছে স্বাভাবিক সময় অপেক্ষা প্রায় ১ সপ্তাহ পরে। অর্থাৎ, সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ সপ্তাহে (২০ থেকে ২৮ সে সেপ্টেম্বর এর মধ্যে)।  যেহেতু অন্যান্য বছর অপেক্ষা প্রায় ১০ দিন দেরি করে মৌসুমি বায়ুর বিপরীতমুখী যাত্রা শুরু হয়েছে তাই ২০২২ সালে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের স্থলভাগ ছেড়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে অন্যান্য বছরগুলো অপেক্ষা ৭ থেকে ১০ দিন পরে।

তিনি জানান, ৩ই অক্টোবর মৌসুমি বায়ু অবস্থান করছিলো ভারতের দিল্লী, রাজস্থান ও গুজরাট রাজ্যের উপরে। অক্টোবর মাসের ১০ তারিখের মধ্যে মৌসুমি বায়ু ভারতের বিহার, ছত্তিসগড়, ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে (আগমনের তারিখ ১/২ দিন কম বেশি হতে পারে)। মৌসুমি বায়ু স্থলভাগে প্রবেশের সময় পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যের উপর অবস্থান করার সময় জুন মাসের ১৫, ১৬, ও ১৭ তারিকে যেমন ভারি বৃষ্টি হয়েছিল পূর্ব-ভারতীয় রাজ্যগুলোতে। বিশেষ করে আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে একই ভাবে মৌসুমি বায়ু ফেরত যাওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যের উপর পৌঁছানোর পরে আবারও ১ সপ্তাহ ভারি বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব-ভারতীয় রাজ্যগুলোতে। সম্ভব্য এই ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে অক্টোবর মাসের ৯ থেকে ১৫ তারিখ। এই সময়ে তিস্তা নদী ও যমুনা নদীর উপকূলবর্তী জেলাগুলো বন্যা-কবলিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে এই বন্যা বড় মানের ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কোন সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। বড় কোন বন্যার সম্ভাবনা দেখা গেলে আবারও পূর্বাভাস দিয়ে জানানো হবে।

অক্টোবর মাসের ১ তারিখ থেকেই উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুর নিম্নচাপের কারণে ঘুরনি বায়ুর সৃষ্টি হয়েছে যার কারণে গত ২ দিন থেকে বাংলাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। চলামন এই বৃষ্টি সোমবারও অব্যাহত রয়েছে দেশব্যাপী যা আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হতে পারে। আগামী ২ সপ্তাহে (অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত) বঙ্গপোসারে একাধিক লঘু চাপ কিংবা নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা নির্দেশ করতেছে আমেরিকার আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল গ্লোবাল ফোরকাস্ট সিস্টেম।

তিনি বলেন, উপরে উল্লেখ্য করেছি যে ইতিমধ্যেই মৌসুমি বায়ু তার দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম ভারত থেকে দক্ষিণ-পূর্বমুখই ফেরত যাত্রা শুরু করেছে সেপ্টেম্বর মাসের ২৫ তারিখের পর থেকে। অক্টোবর মাসের ১০ তারিখের মধ্যে মৌসুমি বায়ু মধ্য ভারত কিংবা পশ্চিম-বঙ্গ ও বিহার রাজ্যের উপর অবস্থান করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দক্ষিণ-পূর্বমুখই মৌসুমি বায়ু প্রবাহ ও লঘু/নিম্নচাপের কারণে সৃষ্ট উত্তর-পশ্চিম মুখি বায়ু বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যের উপর  মিলিত হয়ে সংঘর্ষের কারণেদেশব্যাপী ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই বেশি।


   আরও সংবাদ