ঢাকা, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ চৈত্র ১৪২৯, ১০ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রিয় নবীকে কটূক্তি, সন্তানকে ত্যাজ্য করলেন বাবা



প্রিয় নবীকে কটূক্তি, সন্তানকে ত্যাজ্য করলেন বাবা

প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করায় এক মুসলিম বাবা তার ছেলেকে ত্যাজ্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুর আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ছেলেকে ত্যাজ্য করেন তিনি।

ওই বাবার নাম মো. সেলিম মাস্টার (৫৫)। তার বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া - সিংগারিয়া। আর অভিযুক্ত ছেলের নাম মো. রাজিব। রাজিব এখন জার্মানি আছেন বলে জানা যায়। 

এর আগে গতকাল বুধবার থেকে প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি ও অকথ্য ভাষা ব্যবহার করার ৪ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিও দেখে অনেকে ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন। রাজিবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।

হলফ নামার মাধ্যমে মো. সেলিম মাস্টার জানান, আমি এই মর্মে হলফ পূর্বক ঘোষণা করছি, আমার ধর্ম ইসলাম এবং আমি বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক ও বাসিন্দা। আমার হলফ করার আইনগত অধিকার আছে। আমার দুই ছেলে তিন মেয়ে বর্তমান জীবিত আছে। আমার ছোট ছেলে মো. রাজিব। সে কয়েক বছর যাবৎ ইসলাম বিরোধী মনোভাব নিয়ে চলতে ছিল। কিন্তু তাকে অনেক বুঝিয়ে ইসলামের পথে ফিরিয়ে আনতে পারিনি। সে আমাদের কোন কথা না মেনে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করে। এই সকল খারাপ কাজ ও বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করার কারণে আমি তাকে সঠিকভাবে জীবন যাপন করার পরামর্শ দিই। কিন্তু সে আমার পরামর্শ না মেনে আমার ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। তার এরূপ আচরণের কারণে জনসম্মুখে আমরা নানা প্রকার প্রশ্নের সম্মুখীন ও হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। ৬ মাস আগে আমাদের পরিবারকে কিছু না জানিয়ে রাজিব বিদেশ চলে যায় ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। 

তিনি জানান, গতকাল থেকে রাজিবের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করায় আমি তিক্ত বিরক্ত ও মনে গভীর কষ্টে ভুগছি। তাই আমার ছেলে রাজিবের সঙ্গে বাবা-ছেলের সম্পর্ক ছিন্ন করার মনস্থ করি। আজ থেকে বাবা-ছেলের সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। রাজিব আমার ছেলে না এবং আমি তার বাবা নই।

সেলিম মাস্টার আরও জানান, রাজিব আমাকে বাবার পরিচয় নিয়ে কোন কার্যকলাপ করলে আমি দায়ী না। আমার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করলাম। আমি রাজিবকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করলাম।
---------------
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বায়ুমণ্ডলের কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে বিশ্বে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব কারখানা বা সবুজ শিল্প স্থাপনেও প্রশংসনীয় কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং সেবার যাত্রা। অর্থায়নের ক্ষেত্রে যেখানে পরিবেশবান্ধব কারাখানাকেই বেছে নেয়া হয়। তবে ব্যাংকের অর্থায়নের অন্যতম খাত হিসেবে ইস্পাত, কাগজ, সিমেন্ট, রাসায়নিক, সার, বিদ্যুৎ এবং টেক্সটাইলের মতো যে কারাখানা বা প্রকল্প রয়েছে সেগুলোই সর্বাধিক কার্বন নিঃসরণ ঘটায়। যা পরিবেশের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ইতোমধ্যে সবুজ ব্যাংকিংয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পাশাপাশি গ্রিন প্রকল্পে অর্থায়ন জোরদার করেছে। আর পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নে অর্থায়নের জন্য ব্যাংকিংখাতে চালু করা হয়েছে সবুজ ব্যাংকিং কার্যক্রম। এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

প্রতি তিনমাস পর পর টেকসই অর্থের ওপর পর্যালোচনা প্রতিবেদনে সবুজ ব্যাংকিং কার্যক্রমের ফলাফল গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনে টেকসই আর্থিক শ্রেণিকরণের অধীনে টেকসই অর্থের সমস্ত উপাদানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ব্যাংকগুলো সাসটেইনেবল ফিন্যান্সের ১১টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৮টি পণ্যের বিপরীতে ঋণ দিতে পারে। এসব পণ্যের অধিকাংশই সবুজ অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ৩০ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করেছে ১ হাজার ৪৩ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করে ২৫ হাজার ২৯০ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করে ৮৫৯ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ঋণ বিতরণের এই ঊর্ধ্বমুখী হার ইঙ্গিত দিচ্ছে, সবুজ অর্থায়নের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। টেকসই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কৃষি, সিএমএসএমই, পরিবেশবান্ধব কারখানা, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল প্রকল্পে অর্থায়ন। যদিও মোট ঋণের ২০ শতাংশ টেকসই প্রকল্পে হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের ৭৩ শতাংশ নিয়েছে পুরুষ আর ২৭ শতাংশ নারী।

একই সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করেছে ৩১০ কোটি ডলার, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদি ঋণের ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। মার্চ পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ১ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার অর্থায়ন করে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করে ৪০৯ কোটি ডলার, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদি ঋণের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন অন্যতম। এই খাতে মোট মেয়াদি ঋণের ৫ শতাংশ ঋণ দেয়ার শর্ত রয়েছে।

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে দুই বছর ধরে বিভিন্ন মানদন্ডে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) টেকসই বা সাসটেইনেবল রেটিং বা মান প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চলতি জুন শেষে টেকসই অর্থায়নে বিদেশি ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ২৯ শতাংশ অর্জন করেছে। বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণের তালিকায় দ্বিতীয় ন্যাশনাল ব্যাংক ৬৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এরপর আছে যথাক্রমে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৫৩ দশমিক ৭২, কৃষি ব্যাংক ৫০ দশমিক ৬৭, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ৩১ দশমিক ৪৭, ট্রাস্ট ব্যাংক ২৮ দশমিক ৫৫, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২৫ দশমিক ৮১, যমুনা ২৩ দশমিক ০৯, এনআরবি কমার্শিয়াল ২২ দশমিক ৪১, ব্র্যাক ২০ দশমিক ৬৮ এবং জনতা ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ২০ দশমিক ১১ শতাংশ বিতরণ করেছে।

ব্যাংকবহির্ভ‚ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) মধ্যে বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ ঋণ বিতরণ করেছে। এ ছাড়া লংকান অ্যালায়েন্স ৮৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ, হজ ফাইন্যান্স ৫৭ শতাংশ, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স ৪৭ দশমিক ০৯ শতাংশ ও সিভিসি ফাইন্যান্স ৪৩ দশমিক ২১ শতাংশ ঋণ দিয়েছে।

অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণে প্রতিদিনই বাড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি। বাড়ছে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পানি বৃদ্ধি এবং মাটির লবণাক্ততা। ঝুঁকিগুলোকে শনাক্ত করে তা বন্ধে শুরু হয়েছে নানামুখী কার্যক্রম। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক। প্রথম দিকে ব্যাংকগুলোর অনীহা থাকলেও এখন তারাও এদিকে নজর দিয়েছে। ফলে বাড়ছে সবুজ প্রকল্পে অর্থায়নের পরিমাণ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, চামড়াজাত শিল্প, সিরামিক এসব খাতে এখন গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। ক্রেতাদের চাপ, প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনের জন্য উদ্যোক্তারাও এখন সবুজ ফ্যাক্টরি করার দিকে ঝুঁকছে।

এ ধরনের কারখানা করতে প্রথমে বিনিয়োগের পরিমাণ বেশি লাগলেও পরে এ থেকে সুফল পাওয়া যায়। এই ধারাবাহিকতায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বেড়েছে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন। বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্বও দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে হলে সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হচ্ছে। অন্যথায় তারা আন্তর্জাতিক রেটিংয়ে পিছিয়ে পড়ছে।

আবার টেকসই অর্থায়নের আওতায় এমন প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে, যেখানে ব্যবহার হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। এর ফলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পের সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন। ঝুঁকি কমাতে এই দুই খাতে অর্থায়নের লক্ষ্য বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসব খাতে অর্থায়নে নজর বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি এখন দেশের অনেক ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে।

ব্যাংকগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার। কাগজের ব্যবহার কমাতেও উদ্যোগ নিয়েছে কোনো কোনো ব্যাংক। এ খাতে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন বাড়ছে। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ৩১ হাজার ৬২২ কোটি ডলার। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো অর্থায়ন করেছে ৩০ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একই সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০৫০ সালের মধ্যে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৫০ শতাংশ সবুজ অর্থায়নে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। তবে এ দুটি খাতে ঋণ বাড়াতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার কমাতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফজাল করিম বলেন, দেশে গ্রিন ফিন্যান্স এখনও সীমিত পরিসরে হচ্ছে। ফান্ড নিয়ে বসে আছি। উদ্যোক্তা আসছে না। যদি উদ্যোক্তা আসে, কনসেপ্টটা যেহেতু কাজ করছে, এটার পরিধি বাড়বে। তিনি বলেন, সরকারের তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু প্রণোদনাও আছে। উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা উচিত। সোনালী ব্যাংক গ্রিন ফিন্যান্সে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স পলিসি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সাসটেইনেবল ফিন্যান্সের ১১টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৮টি পণ্যের বিপরীতে ঋণ দিতে পারে। এসব পণ্যের অধিকাংশই সবুজ অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ৩০ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করেছে ১ হাজার ৪৩ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করে ২৫ হাজার ২৯০ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করে ৮৫৯ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ঋণ বিতরণের এই ঊর্ধ্বমুখী হার ইঙ্গিত দিচ্ছে, সবুজ অর্থায়নের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। টেকসই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কৃষি, সিএমএসএমই, পরিবেশবান্ধব কারখানা, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল প্রকল্পে অর্থায়ন। যদিও মোট ঋণের ২০ শতাংশ টেকসই প্রকল্পে হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের ৭৩ শতাংশ নিয়েছে পুরুষ আর ২৭ শতাংশ নারী।

একই সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করেছে ৩১০ কোটি ডলার, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদি ঋণের ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। মার্চ পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ১ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার অর্থায়ন করে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করে ৪০৯ কোটি ডলার, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদি ঋণের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন অন্যতম। এই খাতে মোট মেয়াদি ঋণের ৫ শতাংশ ঋণ দেয়ার শর্ত রয়েছে।

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে দুই বছর ধরে বিভিন্ন মানদÐে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) টেকসই বা সাসটেইনেবল রেটিং বা মান প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চলতি জুন শেষে টেকসই অর্থায়নে বিদেশি ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ২৯ শতাংশ অর্জন করেছে। বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণের তালিকায় দ্বিতীয় ন্যাশনাল ব্যাংক ৬৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এরপর আছে যথাক্রমে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৫৩ দশমিক ৭২, কৃষি ব্যাংক ৫০ দশমিক ৬৭, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ৩১ দশমিক ৪৭, ট্রাস্ট ব্যাংক ২৮ দশমিক ৫৫, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২৫ দশমিক ৮১, যমুনা ২৩ দশমিক ০৯, এনআরবি কমার্শিয়াল ২২ দশমিক ৪১, ব্র্যাক ২০ দশমিক ৬৮ এবং জনতা ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ২০ দশমিক ১১ শতাংশ বিতরণ করেছে।

ব্যাংকবহির্ভ‚ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) মধ্যে বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ ঋণ বিতরণ করেছে। এ ছাড়া লংকান অ্যালায়েন্স ৮৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ, হজ ফাইন্যান্স ৫৭ শতাংশ, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স ৪৭ দশমিক ০৯ শতাংশ ও সিভিসি ফাইন্যান্স ৪৩ দশমিক ২১ শতাংশ ঋণ দিয়েছে।


   আরও সংবাদ