ঢাকা, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ চৈত্র ১৪২৯, ১০ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সভাপতি হলে ফরিদগঞ্জের ভঙ্গুর আ.লীগকে সুসংগঠিত করবো : তোফায়েল আহম্মেদ ভুঁইয়া



সভাপতি হলে ফরিদগঞ্জের ভঙ্গুর আ.লীগকে সুসংগঠিত করবো : তোফায়েল আহম্মেদ ভুঁইয়া

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১০ ডিসেম্বর। এ সম্মেলনের পূর্বে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর আ. লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তবে, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর আ. লীগের সম্মেলনের তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি।

জেলা আ. লীগের সম্মেলনের পূর্বে ফরিদগঞ্জে আদৌ কোনো সম্মেলন হবে কি না এ নিয়ে সংশয় রয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। একাধীক সূত্র জানিয়েছে জেলা আ. লীগের সম্মেলনের পরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আ. লীগের সম্মেলন হতে পারে।

সম্মেলন তারিখ নিয়ে সংশয় থাকলেও বসে নেই সম্ভাব্য সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা। নিজেদের প্রার্থীতার বিষয়ে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। কেউ কেউ পোস্টারিংসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে নিজের প্রার্থীতার বিষয়ে জানান দিচ্ছেন। পাশাপাশি রাজনীতিতে নিজস্ব বলয়ের নেতাদের কাছে ধর্ণা দিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা ও পৌর আ. লীগের সভাপতি-সম্পাদক পদে সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি তরুণ প্রার্থীর সংখ্যাও কম নয়।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা আ. লীগের সম্মেলনসহ রাজনীতির নানান বিষয় নিয়ে থাকছে ধারাবাহিক প্রতিবেদন। এ পর্বে রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহম্মেদ ভুঁইয়াকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

৮০-এর দশকে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে রাজপথ কাঁপানো যে ক’জন ছাত্রনেতা ছিলেন তার মধ্যে তোফায়েল আহম্মেদ ভুঁইয়া সর্বাধিক আলোচিত। তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে (১৯৮৩-৮৬) থানা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে। আ. লীগের দুঃসময়ের সাহসী এ ছাত্রনেতা ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ প্রার্থী। সভাপতি পদে প্রার্থীতাসহ আ. লীগের রাজনীতি নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। তোফায়েল ভুঁইয়াকে নিয়ে দুই পর্বের ধারাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব আজ।
 
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহম্মেদ ভুঁইয়া বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করেছি। কখনোই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলাম না। কারণ তখন আমি দলের কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে ছিলাম না। এছাড়া নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীতা বিষয়ে কেন্দ্র থেকে তখন কোনো নির্দেশনাও ছিলো না। আপনারা দেখেছেন নির্বাচনে আমার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিলো। তবে ভোটে ব্যাপক কারচুপি হওয়ায় আমি নির্বাচন বর্জন করে সরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভোট ডাকাতি না হলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করতাম।

সভাপতি পদে প্রার্থীতার বিষয়ে অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন আমি ১৯৮৩ সালে ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া অবস্থায় ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে ছাত্ররাজনীতি শুরু করি। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি নির্বাচিত হই। ১৯৮৫ সালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৮৬ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। এখন যত আওয়ামী লীগ দেখেন, তখন এতো আওয়ামী লীগ ছিলো না। রাজপথে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে তখন টিকে থাকতে হয়েছে আমাদের। ছাত্ররাজনীতির সময় ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের ব্যাপক হারে বীজ বপন করেছিলাম। উপজেলার ৩৪টি স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করেছি। ছাত্রলীগকে করেছি সুসংগঠিত। আজ ফরিদগঞ্জে আ. লীগ তার সুফল ভোগ করতেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি সম্মেলনে হোক বা না হোক সবক্ষেত্রেই ফরিদগঞ্জে আমার মজবুত ভিত্তি আছে। যদি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয় দলীয় কর্মী ও কাউন্সিলরদের ব্যাপক সমর্থনে সভাপতির দায়িত্ব পাবো বলে আশাবাদী। আমার প্রতি মানুষের সেই আস্থা আছে। দলের দুঃসময়ে অনেক দুরহ কাজ আমি করেছি। আমাকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হলে ফরিদগঞ্জের ভঙ্গুর আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত রুপে দাঁড় করাবো। ফরিদগঞ্জে সুসংগঠিত একটাই সংগঠন থাকবে সেটা হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা আমাকে দিয়েই বর্তমান আওয়ামী লীগ আগামী দিনে যে কর্মকাÐ করবে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে।

ফরিদগঞ্জে আ. লীগের গ্রুপিংয়ের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের গ্রুপিং নিরসনে কর্মীদের মতামতে কাউন্সিলের মাধ্যমে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নে কমিটি গঠন করতে হবে। সর্বক্ষেত্রে কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থের চাইতে দলীয় স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিলে দলের মধ্যে আর কোনো গ্রুপিং থাকবে না। পাশাপাশি জননেত্রী শেখ হাসিনার কমিটমেন্ট অনুসারে দলের র্দুদিনে যারা পাশে ছিলো তাদের ন্যায্য আসনে বসাতে হবে। আর যারা নিষ্ক্রিয় থেকেও দীর্ঘদিন ধরে দলের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতেছে তাদের অপসারণ করতে হবে। ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগে সুবিধাবাদীদের কোনো স্থান হবে না।

ফরিদগঞ্জে আ.লীগের বর্তমান কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে সরকার পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। দেশে বিপুল উন্নয়ন হয়েছে। একই সময়ে ফরিদগঞ্জে আ. লীগ নামধারি অনেক হাইব্রিড আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। তবে, দলের জন্য একটি স্থায়ী/কিংবা অস্থায়ী কার্যালয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি কেউই। 

সাক্ষাৎকারের বাকি অংশ ২য় পর্বে দেখুন---------

সম্পাদনায় নাঈম কামাল


   আরও সংবাদ