ঢাকা, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ চৈত্র ১৪২৯, ১০ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

অফসাইড দিয়ে দলকে হারাইছো!



অফসাইড দিয়ে দলকে হারাইছো!

যেটা ভাবেনি কেউ তেমনটিই ঘটেছে কাতার বিশ্বকাপে। লুসাইল স্টেডিয়ামে এমন একটি ফল হবে কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি কেউ। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলো হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিলো সৌদি আরব। টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে উড়তে থাকা আর্জেন্টিনাকে মাটিতে নামিয়ে আনলো দেশটি। এনিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা আর ক্ষোভ। অনেকেই দোষারোপ করছে অফসাইডকে। ক্ষোভ প্রকাশ করে মোকাররম হোসেন নামে এক আর্জেন্টাইন সমর্থক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, আইসিসির রেফারি!! অফসাইড দিয়ে দলকে হারাইছো। মুরাদ নামে একজন ঐ পোস্টের মন্তব্যের ঘরে গিয়ে লিখেছেন, ১৯৮৬তে এই প্রযুক্তি থাকলে কি যে হইতো ভাই।

মোহাম্মদ যোবায়ের নামে একজন লিখেছেন, খেলা না বুঝে এবং জীবনেও মাঠে না খেলে সমর্থন করা প্রিয় দল আর্জেন্টিনার হারে এবারই প্রথম আনন্দিত হলাম!
অভিনন্দন সৌদি আরব। মাইনুদ্দিন নামের এক ব্রাজিল সমর্থক মজা করে লিখেছেন, কি ও বড় ভাই, আপনার দেই খবর নাই! আরজেতি না। শুভ মাহফুজ নামে এক আর্জেন্টাইন ভক্ত নিজেকে শান্তনা দিয়ে লিখেছেন, সৌদি আরবকে একটু সুযোগ দিলো আরকি! ওয়াহেদুর রহমান মুরাদ নামে একজন লিখেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো ৫ বছর হতে না হতে যেমন ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, ঠিক তেমন আর্জেন্টিনার দর্শকরাও। সারাদিন চিল্লায় জিইত্তা গেছি, পরে রেজাল্ট দেখে রেফারির দোষ, মাঠের দোষ, গোলকিপারের দোষ খোঁজে!  রোহান রাজিব নামে একজন লিখেছেন, ৩৬ ম্যাচ টানা জয়ের পর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার হার। সৌদি আরব যেটা খেলছে জাস্ট অসাধারণ। এজন্য ফুটবল খেলায় বড় দল ছোট নেই। বিশ্বকাপে বড় দলগুলোকে ছোট দলগুলো এভাবেই রুখে দিতে পারে। এটা বড় দলগুলোর জন্য একটা বার্তা। অভিনন্দন সৌদি আরব।

প্রথমার্ধে মোট চার গোল করলো আর্জেন্টিনা; কিন্তু অফসাইডের কারণে তিনটিই বাতিল হয়ে গেলো। পেনাল্টি থেকে করা মেসির গোলটি ছাড়া আর কোনোটিই বৈধ হলো না। ফলাফল প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেলো আর্জেন্টিনা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তাদের ডিফেন্সের মারাত্মক ভুলে গোল হজম করে বসলো লিওনেল মেসির দল। ৪৮তম মিনিটে বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত এক শটে লা আলবিসেলেস্তেদের জালে বল জড়ান সৌদি আরবের সালেহ আল সেহরি। ৫৪তম মিনিটে আবারও গোল। এবার সৌদি আরবের ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় সালেম আল দাওসারি রদ্রিগো ডি পল এবং নিকোলাস ওতামেন্দিকে কাটিয়ে ডান পায়ের দুর্দান্ত এক শটে বল জড়ান আর্জেন্টিনার জালে।

সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটেই পেনাল্টি গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা। ভিএআর চেক করে আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি দেন রেফারি। স্পট কিক নেন লিওনেল মেসি। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে সহজেই বলটি সৌদি আরবের জালে জড়িয়ে যায়। খেলার ৮ম মিনিটেই কর্নার কিক পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিক নেন মেসি। এ সময় বক্সের মধ্যে লিয়ান্দ্রো প্যারেদেসকে ফেলে দেন আল বুলাইহি। এরপরই ভিএআর চেক করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৭ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার লিওনেল মেসির এটাই শেষ বিশ্বকাপ এবং এবারই শেষ সুযোগ তার বিশ্বকাপ জয়ের। সে লক্ষ্যেই সৌদি আরবের বিপক্ষে সূচনাটা ভালোই হয়েছে বলা যায় মেসির। তবে এই পেনাল্টির পর দারুণ একটা পরিসংখ্যানও সামনে চলে এলো। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম পেনাল্টি থেকে গোল করলো আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রভাব বিস্তার করে খেলার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই মেসির বাঁ পায়ের দুর্দান্ত একটি শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন সৌদি গোলরক্ষক আল ওয়েসিস। ৬ষ্ঠ মিনিটেই মেসির দারুণ একটি শট ঠেকিয়ে দেন সৌদি গোলরক্ষক। ৮ম মিনিটে কর্নার কিক করেন মেসি। আল ওয়েসিস পাঞ্চ করে বল ঠেকিয়ে দিলেও প্যারেদসকে ফেলে দেন আল বুলাইহি। ভিএআর চেক করে রেফারি জানালেন এটা ফাউল এবং পেনাল্টি।

২২তম মিনিটে একটি গোল করেন মেসি। কিন্তু লাইন্সম্যান আগেই ফ্ল্যাগ তুলে দাঁড়িয়ে থাকেন। জানালেন এটা ছিল অফসাইড। ২৮ মিনিটে লওতারো মার্টিনেজ গোল করেন। কিন্তু এবারও ভিএআরের কারণে দেকা গেলো তিনি ছিলেন অফসাইডে। সুতরাং গোল বাতিল। ৩৪ মিনিটে আরও একবার সৌদির জালে বল জড়ায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু তার আগেই সাইড রেফারি জানিয়ে দেন- এটা ছিল অফসাইড।

প্রথমার্ধে খেলাটা শেষ করে দিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তারই মাসুলটা দেয় দ্বিতীয়ার্ধে। বিরতির পর সৌদি আরব গা ঝাড়া দিয়ে উঠল যেন। তিন মিনিটের মধ্যেই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান সৌদি ফরোয়ার্ড সালেহ আলসেহরি। ওই গোলই যেন ভড়কে দিল আর্জেন্টিনাকে। সে গোলের ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি, রক্ষণও ধাতস্থ হতে পারেনি। ৫৩ মিনিটেই আবার গোল খেয়ে বসে দলটি। স্ট্রাইকার সালেম আল দাওসারির দারুণ এক গোলে সৌদি আরব এগিয়ে যায় ২-১ গোলে।আর্জেন্টিনার কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকেছেন সৌদি গোলরক্ষক মোহামেদ আল ওয়াইস। একের পর এক শট রুখেছেন মেসিদের। সৌদি রক্ষণও কম যায়নি। অন্তিম সময়ে একটা শট ফিরিয়েছে গোললাইন থেকে। আর্জেন্টিনা যে ম্যাচটা জিতছে না, সেটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তখনই। বাকি ছিল কেবল রেফারির শেষ বাঁশির।

অতিরিক্ত সময়ে ওয়াইসের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন আল শাহরানি, তাতে অতিরিক্ত সময়ের দৈর্ঘ্য বাড়ে আরও একটু। মূল সময়ে হয়নি, অতিরিক্ত সময়েও হলো না আর্জেন্টিনার। উদ্বোধনী ম্যাচটা হেরেই শেষ করে লিওনেল মেসির দল। তাতে বিশ্বকাপ স্বপ্নটা যে বিশাল একটা ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনার, তা বলাই বাহুল্য!


   আরও সংবাদ