ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯, ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

যে দিনটি ছাড়া স্বাধীনতার ইতিহাস অসম্পূর্ণ



যে দিনটি ছাড়া স্বাধীনতার ইতিহাস অসম্পূর্ণ

ক্যালেন্ডারের পাতায় ২৪ জানুয়ারি দিনটি 'গণঅভ্যুত্থান দিবস' হিসেবে পালিত হয়। অভ্যুত্থানটি হয়েছিল ১৯৬৯ সালে, যখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ব পাকিস্তান বলে পরিচিত ছিল। দিবসটি এতই তাৎপর্যপূর্ণ যে, এটিকে বাদ দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের কথা ভাবা যায় না। দিবসটির সঙ্গে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলাম। এই দিবসটির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য নির্বাচন হয়েছিল। এই নির্বাচনে একপক্ষে ছিলেন পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান এবং তার বিপরীতে বিরোধী দলগুলোর মনোনীত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন মিস ফাতেমা জিন্নাহ। ফাতেমা জিন্নাহকে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে নাম প্রস্তাব করেছিলেন পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি করাচির লাখাম হাউস থেকে এই প্রার্থিতার প্রস্তাব করেন।

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে আমাদের জেনে নেওয়া উচিত, সেই সময়ে পাকিস্তানের সাংবিধানিক অবস্থা কেমন ছিল। বিশ্বে স্বাভাবিকভাবে প্রচলিত দুই ধরনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বীকৃতি তৎকালীন পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে ছিল না। যদিও পাকিস্তান তখন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিচারে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও এই ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের লেশমাত্র ছিল না। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর সামরিক শাসনের অধীনে সমগ্র পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা নিজ হাতে তুলে নেন। সামরিক শাসন জারি হলে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়। সংবাদপত্রের ওপর কড়া সেন্সরশিপ প্রবর্তন করা হয়। সামরিক শাসক আইয়ুব খান ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ বলবৎ হওয়া শাসনতন্ত্র বাতিল করে দেন। উল্লেখ্য, এই শাসনতন্ত্রই ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র। এই শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে ৯ বছর অতিবাহিত হয়েছিল। এই শাসনতন্ত্র তৎকালীন পাকিস্তানের প্রদেশগুলোর কাছে পরিপূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। পাকিস্তানের অন্তর্গত প্রদেশগুলোকে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়নি। এই শাসনতন্ত্রে বাংলা এবং উর্দু রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। এই শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানকে একটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই শাসনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সূচিত হয়েছিল। মাত্র দুই বছরের মাথায় সামরিক শাসন জারি করে দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যে শাসনতন্ত্র গ্রহণ করা হয়েছিল, তাও বাতিল করে দেওয়া হয়।

কেন ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করা হয়েছিল? কথা ছিল, ১৯৫৬ সালে গৃহীত শাসনতন্ত্রের অধীনে পাকিস্তানব্যাপী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৯৫৯ সালে। সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তার সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারত? ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ছিল একটি সমগ্র পাকিস্তানভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এ দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পোড় খাওয়া এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- হাজি মোহাম্মদ দানেশ, মোহাম্মদ তোয়াহা, আব্দুল হক, ব্যারিস্টার আব্দুল হক, ব্যারিস্টার সলিমুল হক খান মিল্ক্কি, অধ্যাপক আসহাব উদ্দিন আহম্মদ, আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, মির্জা গোলাম হাফিজ, রাজা আলী সফদার খান, অধ্যাপক মফিজুল ইসলামসহ অনেকে। 

পশ্চিম পাকিস্তানে এ দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন- সীমান্ত গান্ধী খান আব্দুল গাফফার খান, আবদুল মজিদ সিন্ধি, আফজাল বাঙ্গাশ, প্রিন্স আবদুল করিম খান, খায়ের বকস মারি, গাউস বকস বেজেঞ্জো, মিয়া ইফতেখার উদ্দিন, কর্নেল লতিফ আফগানি, আসলাম খাটক, মেজর ইসহাকসহ অনেকে। এই দল দুটি প্রধান দাবির ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছিল। দাবি দুটি ছিল- প্রদেশগুলোর জন্য পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ। যখন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠিত হয়, তার আগেই পাকিস্তানে পাক-মার্কিন সামরিক জোট এবং সিয়াটো ও সেনটো গঠিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা সে সময় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ১৯৫৯-এ নির্বাচন হলে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করবে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি অথবা ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সমর্থন নিয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট। যাই ঘটুক না কেন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি সরকার গঠনের জন্য জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের শর্ত প্রদান করবে। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সামরিক জোট হয়েছে, সেগুলো অকার্যকর হয়ে পড়বে। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারির পেছনে কলকাঠি নেড়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্বার্থকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হলো।

সামরিক শাসন জারির পর শত শত রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান বলতেন, 'পাকিস্তান নিডস ডেমোক্রেসি স্যুটেড টু দ্য জিনিয়াস অব ইটস পিপল'। অর্থাৎ পাকিস্তানে এমন গণতন্ত্র চালু করতে হবে, যেই গণতন্ত্র পাকিস্তানের জনগণের বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান এই তত্ত্ব দিয়ে পাকিস্তানের জনগণকে অপমানিত করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আইয়ুব খান পাকিস্তানে যে গণতন্ত্র চালু করলেন তার নাম ছিল বেসিক ডেমোক্রেসি বা মৌলিক গণতন্ত্র। মৌলিক গণতন্ত্রের মূলকথা ছিল পাকিস্তানের দুই অংশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী নির্বাচিত হবেন, যারা ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদটি কে পাবেন। এ ধরনের নির্বাচনে কখনোই বিরোধীদলীয় প্রার্থী জয়লাভ করতে পারতেন না। কারণ ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রযন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে মৌলিক গণতন্ত্রীদের সমর্থন ও আনুগত্য কিনে ফেলতে পারবেন। তা সত্ত্বেও বিরোধী দলগুলো ফাতেমা জিন্নাহকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়। এর ফলে বিশাল জনজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছিল। নির্বাচনী প্রচারে ফাতেমা জিন্নাহ যেখানেই যেতেন, সেখানে বিশাল গণসমাবেশ হতো। এই গণসমাবেশের অন্য রকম মূল্য থাকলেও তাদের হাতে ব্যালট পেপার ছিল না। নির্বাচনে আইয়ুব খানই জয়ী হলেন। আইয়ুব খান এই নির্বাচনটি করলেন ১৯৬২ সালে তার ঘোষিত শাসনতন্ত্র অনুযায়ী। জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে এভাবেই পাকিস্তানে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছিল।

আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্রীদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর শাসন ক্ষমতাকে আরও সুগঠিত করে তোলেন। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সংগ্রামী ছাত্র সংগঠনগুলোও তীব্র হতাশার মধ্যে নিপতিত হয়। এমনি এক হতাশার মধ্যে আশার সঞ্চার করলেন মওলানা ভাসানী। তখন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলছিল। তিনি ছিলেন ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি। মওলানা ভাসানী পল্টনের এক জনসভা থেকে ৭ ডিসেম্বর ১৯৬৮ হরতাল ঘোষণা করলেন। হরতালে পুলিশের গুলিতে আব্দুল মজিদ এবং আবু নামে দুই ব্যক্তি নিহত হলেন। এই হরতালের মধ্য দিয়ে হতাশার চাদর সরতে শুরু করল। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের দুই গ্রুপ এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ১১ দফার ভিত্তিতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করল। ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকায় ছাত্রসমাজ পুলিশের বাধা অতিক্রম করে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠান করল। এদিন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের অগ্রবর্তী কর্মী আসাদুজ্জামান বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রবেশমুখে ডিএসপি বাহাউদ্দিনের গুলিবর্ষণের ফলে নিহত হন। তার মৃত্যুতে জনগণ সংগ্রামী ছাত্রসমাজের সঙ্গে পরিপূর্ণভাবে একাত্ম হয়ে উঠে। সেদিন অপরাহেপ্ত যে নীরব শোক মিছিল হয়েছিল, তা দেশের প্রত্যেক মানুষের অজানা ব্যথার অভিব্যক্তি হয়ে উঠেছিল। অনেক সময় নীরবতা ভাষায় সরব প্রকাশের চেয়েও শতগুণ শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। সেদিনকার শোক মিছিল গণঅভ্যুত্থানের সাফল্যকে সুনিশ্চিত করেছিল। 

প্রমাণিত হলো, নিস্তব্ধতার ভাষা বাগ্ধময়তার শব্দের চেয়ে সহস্র গুণ শক্তিশালী। ২০ জানুয়ারির পর শোক মিছিল, মশাল মিছিল এবং প্রতিবাদ মিছিলের মাধ্যমে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নানা কর্মসূচি পালন করে এবং ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৯ হরতালের ডাক দেয়। ২৪ জানুয়ারি হরতাল গণঅভ্যুত্থানে রূপ লাভ করে। ঢাকার রাজপথ লক্ষ জনতার মিছিলে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ওই সময় একটি মামলার কারণে আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকায় আমি প্রথম দিককার কর্মসূচিতে সশরীরে থাকতে পারিনি। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই কর্মীদের সঙ্গে রাতের বেলায় মিলিত হতাম। ২৪ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে আমার সংগঠনের এক দল কর্মী আমাকে গোপীবাগের আশ্রয়স্থল থেকে পল্টন ময়দানে বিশাল জনসমাবেশে নিয়ে যেতে এলো। তারা বলল, দেশে এখন সরকার নেই। দেশের আসল মালিক জনগণের কাছে এখন সরকারের ক্ষমতা। তারা আমাকে পল্টনের জনসমুদ্রে নিয়ে এলো। তখন পল্টন ময়দানে পাঁচ লাখ লোকের সমাবেশ। অন্য ছাত্রনেতারা একটি বেঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে জনতার সঙ্গে কথা বলছিলেন। একই সময়ে ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপের নেতা আত্মগোপন অবস্থা থেকে পল্টন ময়দানে এসে হাজির হলেন। আমাদের পাশে ছিল শহীদ মতিউর রহমানের লাশ। সমবেত জনতা নেতৃত্বের কাছে গভর্নর ভবন (এখন বঙ্গভবন) আক্রমণের আদেশ চাইল। কিন্তু এ রকম আদেশের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে মনে করে নেতৃবৃন্দ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যান। অবশেষে মতিউর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইমাম সাহেব আবেগ মিশ্রিত ভাষায় আল্লাহর কাছে জালেমের-জুলুমের বিরুদ্ধে মোনাজাত করলেন।

ইমাম সাহেব যখন বলছিলেন, 'হে আল্লাহ, আপনি জালেমের মুখ কালা কইর‌্যা দ্যান।' জনতা উচ্চারণ করল, 'ইয়া আল্লাহ।' মনে হলো, লক্ষ জনতার অভিসম্পাত উচ্চারণের মধ্য দিয়ে জালেম শাহির অবসান ঘটল। এর পর জনতাকে নিয়ে ইকবাল হলের (বর্তমান জহুরুল হক হল) দিকে মিছিল নিয়ে আমরা অগ্রসর হলাম। মিছিলটি যখন পোস্ট অফিসের সামনে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন আমার অবস্থান ছিল এর অগ্রভাগে। তবে মূল মিছিল থেকে ৮-১০ ফুট সামনে। আমি দেখলাম, ইপিআর বাহিনী মেশিনগান ত্যাগ করে তার ওপর শুয়ে পড়ে পজিশনে ছিল। কিন্তু এতে সামান্যতম ভয় আমি পাইনি। জনতা ইকবাল হলে পৌঁছানোর পর কিছুক্ষণের জন্য বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল পরবর্তী কর্মসূচি প্রশ্নে। নেতৃত্বের একাংশ হরতাল ঘোষণার বিরোধী ছিল। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সিরাজুল আলম খানের অনুসারীরা হরতাল ঘোষণার দাবি জানাল। সিরাজুল আলম খান উপস্থিত জনতার কাছে সংগ্রামী অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানালেন। এর আগে শহীদ মতিউর রহমানের পিতা উপস্থিত জনতার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, 'আমি এক সন্তানকে হারিয়ে লক্ষ সন্তান পেয়েছি। আমার কোনো আফসোস নেই।' ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের হরতাল ঘোষণার বিপরীতে সরকার কারফিউ ঘোষণা করল। অল্প কিছুদিনের জন্য হলেও ইকবাল হল হয়ে উঠেছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিকল্প প্রশাসন ভবন। জনতার শক্তি কীভাবে অপরিসীম শক্তিতে পরিণত হয়, তা দেখা গেল ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে।

ড. মাহবুব উল্লাহ :অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


   আরও সংবাদ