ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯, ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

আত্মহত্যার শীর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা



আত্মহত্যার শীর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২১ সালে আত্মহত্যা করেছেন ১০১ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র রয়েছে ৬৫ জন। যার হার ৬৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ, মেয়েদের থেকে ছেলেদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। এসব ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশই প্রেমঘটিত। এ তথ্য দিয়েছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আঁচল ফাউন্ডেশন’।

দেশের প্রায় ৫০টি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার আত্মহত্যার সংবাদ বিশ্লেষণ করে তারা এ তথ্য পায়। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আত্মহত্যাকারীদের একটা বড় অংশই ছিল ছাত্র। আত্মহত্যা করেন ৬৫ ছাত্র, যা মোট শিক্ষার্থীর ৬৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যাটা ছিল ৩৬ জন, যার হার ৩৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

আত্মহত্যা করেছেন ১০১ শিক্ষার্থী
প্রেমঘটিত কারণে ২৫ শতাংশ
মেয়েদের চেয়ে এগিয়ে ছেলেরা

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছর সবচেয়ে বেশি নয় শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারজন। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে। যার সংখ্যা তিনজন।

আত্মহত্যার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পর্ক বা প্রেমঘটিত কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। যার হার ২৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এছাড়া পারিবারিক সমস্যা ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, মানসিক যন্ত্রণা ১৫ দশমিক ৮৪, পড়াশোনার জন্য ১০ দশমিক ৮৯ এবং আর্থিক সমস্যার জন্য আত্মহত্যা করেছেন চার দশমিক ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। অনার্স পড়ুয়া তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার তুলনামূলক বেশি, যা ৩৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। 

বয়সের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ২২-২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছেন বেশি, যা ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। ৬০টি আত্মহত্যার ঘটনা বিশ্লেষণে বয়সসীমার এ তথ্য পাওয়া যায়। ‘আঁচল ফাউন্ডেশন’ বলছে, মহামারির মধ্যে সামাজিক-আর্থিক ও পারিবারিক চাপ ছাত্রদের আত্মহত্যার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।


   আরও সংবাদ