ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯, ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

ভয়াবহ শ্রমিক সঙ্কট



ভয়াবহ শ্রমিক সঙ্কট

বিগত কয়েক বছর ধরে ধান কাটা শ্রমিকের সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করছে। মাঠের ধান গোলায় তুলতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে কৃষককে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংসদে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এবার সঙ্কট আরো বেশি ঘনিভুত হচ্ছে। সারাদেশে কয়েক দিন ধরে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। এতে কিছু জমির পাকা ধান গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। জরুরিভিত্তিতে এসব জমির ধান কাটতে হচ্ছে কৃষকদের। তারওপরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ঘূর্ণিঝড় 'অশনি'র পূর্বাভাস। দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে ধেয়ে আসছে ‘‌অশনি’। যে কারণে আগেভাগেই ধান কেটে গোলায় ভরতে মরিয়া কৃষকরা। এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেতের ধান কেটে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। সাবাই একইসাথে ধান কাটতে চাওয়ায় শ্রমিক সঙ্কট বেড়ে গেছে। যে কারণে নতুন সঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে।

কৃষকদের অভিযোগ, আকাশে মেঘ দেখলেই বাড়ছে শ্রমিকের মূল্য। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে কৃষকরা স্থানীয় বাজারগুলোতে ছুটছেন মৌসুমী শ্রমিক নিতে। কিন্তু শ্রমিকের চড়া মূল্যে অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে শ্রমিকের মূল্য বেড়েছে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।

জানা গেছে, পটুয়াখালীতে কৃষকদের আবাদকৃত বোরো ধান কাটার নির্দেশ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। ৮০ শতাংশ ধান পেকেছে এমন খেতের ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা। তবে যেসব খেতের ধান এখনও ভালোভাবে পাকেনি, সেসব কৃষকরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দিনাজপুরের হিলিতে চলতি বোরো মৌসুমে ৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠের ধান পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিক সঙ্কটে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। এছাড়া অতিরিক্ত মূল্য দিয়েও শ্রমিকদের কাজে নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক। 

নওগাঁর বোরো চাষিরাও পড়েছেন বিপাকে। শেষ পর্যন্ত মাঠের ধান ঘরে তুলতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখানকার ধানও কাটা-মাড়াই অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় একটু পরেই হয়ে থাকে। অধিকাংশ খেতে পানি জমে যাওয়ায় আকাশে মেঘ দেখলেই মাঠের শুয়ে পড়া পাকা ধান ঝড়-বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন কৃষকেরা। বর্তমানে প্রত্যেক কৃষক নিজেদের ধান নিজে কাটার জন্য ছাত্র, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এখন ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। তিনি বলেন, আবহাওয়াবিদ এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া অফিস ধারণা করছে, ঘূর্ণিঝড়টি ১২ মে সকালে বিশাখাপত্নম, ভুবনেশ্বর, পশ্চিমবঙ্গ স্পর্শ করে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ‘অশনি’র প্রভাবে বাংলাদেশে ঝড়-বৃষ্টি হবে, কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হবে না।

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি গতকাল রবিবার সকালের দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’তে রূপ নেয়। ফলে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।


   আরও সংবাদ