ঢাকা, সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

গুদামে হাসছে সয়াবিন



গুদামে হাসছে সয়াবিন

সয়াবিন তেলের সঙ্কট প্রকট। ভোক্তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে হাহাকার। তেল নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তেলেসমাতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে দাম বাড়িছে সরকার। তবুও সঙ্কট কাটছে না। বাজারগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না সয়াবিন তেল। এমন পরিস্থিতিতে গুদামে গুদামে অভিযান চালাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে একে একে খুলতে শুরু করেছে গুদামের দরজা। উদ্ধার করা হচ্ছে হাজার হাজার লিটার তেল। দেশের বিভিন্ন গুদামে অভিযানের পর ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, দেশে যথেষ্ট সয়াবিন তেল থাকা সত্ত্বেও ঈদের আগে-পরে তা দোকানে আসেনি। এতে ১০ দিনে ৪০ হাজার টনের মতো সয়াবিন তেল মজুদ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অবৈধভাবে ভোজ্যতেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি দায়ে খাগড়াছড়ির রামগড়ে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলার এক ব্যবসায়ীর পৃথক ৪টি গুদামে সন্ধান মেলে ৫৭ হাজার লিটার সয়াবিন তেলের। কোনো ধরনের ডিলিং লাইসেন্স ছাড়া বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফার জন্য এভাবে তেল মজুদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সোনাইপুল বাজারের মেসার্স খাঁন ট্রেডার্স নামে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ফজলুল করিম পাটোয়ারীকে জরিমানা করা হয় ১ লাখ টাকা। এ সময় একই অপরাধে ওই বাজারের মেসার্স আলমগীর স্টোরকে জরিমানা করা হয় ২৫ হাজার টাকা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে চট্টগ্রামের তিনটি স্থানে গত দুদিনে ১৮ হাজার লিটারের বেশি সয়াবিন তেল পাওয়া গেছে। সিরাজ সওদাগর নামে এক ব্যাবসায়ীর দোকানের গুদাম থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ১৫ হাজার লিটার। গত রবিবার চট্টগ্রামের ষোলশহরে এক দোকানের গুদামে থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার লিটার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল। এর আগে গত শনিবার রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক মুদি দোকানির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৩২৮ লিটার।

গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার অদ্বিতি ট্রেডার্স, মেসার্স সিফাত ট্রেডিং ও মেসার্স মিন্টু স্টোর নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র‌্যাব। অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে মজুত রাখা ১১ হাজার ৯২৫ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। পরে সয়াবিন তেলের অবৈধ মজুত এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে তিন প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, দেশব্যাপী আমাদের অভিযান চলছে। যেখানেই তেলের মজুত পাওয়া যাচ্ছে আমরা তা জব্দ করছি। কারসাজিতে জড়িত সবাইকে অর্থদণ্ড দেয়া হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির আগে এমন অভিযান চালানো হয়নি ভোক্তাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমরা ঈদের আগেও অভিযান চালিয়েছি, এখনো চালাচ্ছি। একটি, দুটি নয় প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠান কারসাজিতে জড়িত। যে কারণে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে।

দাম বাড়ার পরেও কেন সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার বলেন, যারা তেল মজুত করেছে সবগুলো পুরনো দামের। তারা সুযোগ খুঁজেছে খোলা তেলের দাম বাড়ার। এখন সেটাও বেড়ে গেছে। পুরনো দামের তেল তো আর নতুন দামে বিক্রি করতে পারবে না, যেকারণে এখনো অবৈধভাবে মজুত রাখা তেল বাজারে আসছে না। তবে আগামীকাল (আজ) মঙ্গলবার থেকে সয়াবিন তেলের বাজার স্বাভাবিক থাকবে। মজুত করে রাখা তেল বিক্রি হবে আগের দামেই। নতুন দামে শুধুমাত্র বিক্রি করা যাবে নতুন করে সরবরাহ করা তেল।


   আরও সংবাদ