ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯, ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি



ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি

আগের থেকে বেশি পণ্য আমদানি করছে দেশ। কিন্তু সেই তুলনায় রপ্তানি আয় বাড়েনি। এতে ঘাটতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে দেশ। ফলে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) বড় ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্য, জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতি। এর আগে কখনই এতো বাণিজ্য ঘাটতি দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানের তথ্যমতে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত এই ৯ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ২ হাজার ৪৯০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। যা গত অর্থবছরের ঘাটতির চেয়েও ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। আর জুলাই-মার্চ সময়ের চেয়ে প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের এই ৯ মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫২৮ কোটি ডলার। আর পুরো অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। 

জুলাই-মার্চ সময়ে এ ঘাটতি ১৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ১৪ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ৬ হাজার ১৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই ৯ মাসে ৪ হাজার ২৭৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে ৩ হাজার ৬৬১ কোটি ডলার আয় করেছেন রফতানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। এ হিসাবেই অর্থবছরের ৯ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯১ কোটি ডলার।

জুলাই-মার্চ সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১৯৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। মূলত বীমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়। তবে আর্থিক হিসাবে এখনো বড় উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। জুলাই-মার্চ সময়ে এই উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৪ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের এই সময়ে ৭৯৫ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

তথ্যে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ৬৮০ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই ৯ মাসে ৪৩৮ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছিল। তবে জুলাই-মার্চ সময়ে সামগ্রিক লেনেদেনে (ওভারঅল ব্যালান্স) ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচকে ৭ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে জুলাই-মার্চ সময়ে মোট আমদানি ব্যয়ের ৭০ শতাংশের মতো খরচ হয়েছে রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্য পণ্য আমদানিতে। একই সঙ্গে এ খাতে নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিও বেড়েছে।


   আরও সংবাদ