ঢাকা, সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

বৈশ্বিক সংকটেও রপ্তানিখাতে সুবাতাশ



বৈশ্বিক সংকটেও রপ্তানিখাতে সুবাতাশ

গত দুই বছরে করোনার ভয়াবহ ধাক্কায় দেখা দিয়েছে বৈশ্বিক সংকট। কুপোকাত হয়েছে দেশের রপ্তানিখাত। করোনার ধাক্কা সামলানোর আগেই ফের রপ্তানিখাত থমকে গেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। যুদ্ধের অস্থিরতায় দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সার্বিক রপ্তানিখাত। রপ্তানিকারকরা একের পর এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করছেন। দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে বইছে স্বস্তির সুবাতাস। রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতিই জানিয়ে দিচ্ছে বিষয়টি। রপ্তানিকারকেরা বলছেন, রপ্তানির এ ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে পণ্য রপ্তানির আয় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। 

এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো'র (ইপিবি) হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই অর্জিত হয়েছে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা। রপ্তানিকারক ও ইপিবির কর্মকর্তাদের আশা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় চলতি অর্থবছর পণ্য রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলার বাড়বে। যদি তাই হয় তাহলে অর্থবছর শেষে পণ্য রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে।

করোনার পর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পণ্য রপ্তানিতে বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ। তাতে দুই মাস বাকি থাকতেই চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি রপ্তানি হয়েছে। জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ৪ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১০ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমান পৌনে ৪ লাখ কোটি টাকা। এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে মাইলফলকে অবস্থান করবে বাংলাদেশ। এর আগে এক বছরে সর্বোচ্চ রপ্তানি হয়েছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলার।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি রপ্তানি বেড়েছে হিমায়িত খাদ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্রকৌশল ও রাসায়নিক পণ্যের। তবে বড় খাতের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে।

রপ্তানিতে এবারও শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছে তৈরি পোশাক। ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১০ মাসে ৩ হাজার ৫৩৬ কোটি ডলারের। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই খাত থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। শুধু এপ্রিলে রপ্তানি হয়েছে ৩৯৩ কোটি ডলারের। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৫৬ শতাংশের মতো। গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি রফতানি আয় দেশে এসেছে। এ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি এসেছে ৪০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অর্থবছরের হিসাবে আয় হয়েছে ১০ মাসে ৪৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়েও ১২ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, সরকার আরএমজি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ বিলিয়ন ডলার ঠিক করলেও আমরা আশা করছি তা ৪৩ বিলিয়ন ডলার ক্রস করবে। বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাই আগামী বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যে ক্রয়াদেশের হার কিছুটা পড়তির দিকে। আগামী জুন-জুলাই থেকেই রপ্তানি আয়ে তা প্রকাশ পাবে। রপ্তানি ধরে রাখতে উদ্যোক্তাদের নতুন উদ্যোগ লাগবে।

কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে সরকার ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে। এ কারণে এ খাতের রপ্তানিও বাড়ছে। বিশ্বের যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন, সেসব দেশেই এসব পণ্য বেশি রপ্তানি হয়। চলতি অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ওয়েল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, এ খাতে রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে সরকার ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে। এ কারণে এ খাতের রপ্তানিও বাড়ছে। দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বেশ কিছু দেশেও বাংলাদেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। নতুন নতুন দেশে রপ্তানি যত বাড়বে, এ খাতের সম্ভাবনাও তত বাড়বে। তবে এদিকে রপ্তানি আয়ের লক্ষমাত্রা অর্জন হয়নি পাট ও পাটজাত পণ্যের। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আয় হয়েছে ৯৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। আয় কম হয়েছে ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান বলেন, চলতি অর্থবছর পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। আমরা আশা করছি এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রপ্তানি হবে। যা ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে পারে। এর সঙ্গে সার্ভিস রপ্তানি আরো ৮ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হলে চলতি বছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ৫৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে।


   আরও সংবাদ