ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯, ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

ডলারের কাছে হারছে টাকা

লাভে রপ্তানিকারক-প্রবাসীরা, খরচ বাড়বে আমদানিকারকদের

ডলারের কাছে হারছে টাকা

বাজারে চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মার্কিন ডলারের দাম। বিপরীতে মান হারাচ্ছে দেশীয় মুদ্রা টাকা। এক দিনেই টাকার মান ক‌মেছে ২৫ পয়সা। গত ১৪ দিনে দুই দফায় কমেছে ৫০ পয়সা। গতকাল মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে হয়েছে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা ধরে। এক‌দিন আগে সোমবার যার মূল্য ছিলো ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। গত এপ্রিলের ২৭ তারিখ যার দাম ছিলো ৮৬ টাকা ২০ পয়সা।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো নগদ ডলার বিক্রি করছে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেশি দরে। ব্যাংকের বাইরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার কেনাবেচা হয়েছে ৯২ থেকে ৯৩ টাকায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে ব্যাপক হারে আমদানির চাপ বেড়েছে। এতে আমদানির দায় পরিশোধ করতে লাগছে বাড়তি ডলার। কিন্তু আমদানির তুলনায় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়েনি। ফলে চাপ বাড়ছে ব্যাংক ব্যবস্থা ও খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের ওপর। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দি‌য়ে‌ছে। যে কারণে টাকার বিপরীতে বাড়ছে ডলারের দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর চাহিদার বিপরীতে ডলার বিক্রি করছে। এতে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। কিন্তু তারপরও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানায়, মূলধনীয় যন্ত্রপাতি ও পণ্য আমদানি বেশি হওয়ায় ডলারের চাহিদা বেশি। ফলে ডলারের রেট বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার বিশ্লেষণ করে ডলারের দাম ঠিক করে। কোনো সময় টাকার অবমূল্যায়ন করে। এখন বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করেছে এখন ডলারের দাম বাড়ানো উচিত। তাই বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তার মূলধনের ১৫ শতাংশের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিজেদের কাছে ধরে রাখতে পারে। এর অতিরিক্ত হলেই তাকে বাজারে ডলার বিক্রি করতে হবে।


   আরও সংবাদ