ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯, ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

ঈদযাত্রায় ৪০২ দুর্ঘটনায় নিহত ৪৪৩

দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল

ঈদযাত্রায় ৪০২ দুর্ঘটনায় নিহত ৪৪৩

১৬৪ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৪৫
দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেক মোটরসাইকেলে

বছর ঘুরে মানুষের দরজায় কড়া নাড়ে পবিত্র ঈদ। সেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গ্রামের বাড়ির পথে নামে জনতা মিছিল। তবে আনন্দ যাত্রার এ মিছিলে যোগ দেয়া সবার ক্ষেত্রে আর আনন্দ ভাগাভাগি করা হয় না। সড়ক, রেল এবং নৌ দূর্ঘটনায় কারো কারো আনন্দ রুপ নেয় বিশাদে। প্রতিবছর এসব দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান বহু মানুষ। এবারও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। ঘটেছে দূর্ঘটনা, হয়েছে প্রাণহানী ও অঙ্গহানী।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, এবারের ঈদযাত্রায় ৪০২টি দুর্ঘটনায় ৪৪৩ জন নিহত এবং ৮৬৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪১৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৮৪৪ জন। রেলপথে ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত এবং আহত হন চার জন। নৌ-পথে তিনটি দুর্ঘটনায় দুই জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমিতির মহাসচিব মোজ্জাম্মেল হক চৌধুরী।

এ সময় তিনি এবারের ঈদযাত্রার দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান এবং কারণ উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২৬ এপ্রিল থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা (১০ মে) পর্যন্ত ১৫ দিনে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, নিহত ২২ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও আহত ২৬ দশমিক  ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল। এবার ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত এবং ১১০ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ০৮ শতাংশ, নিহতের ৩৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং আহতের ১৩ দশমিক ০৩ শতাংশ প্রায়।

তিনি বলেন, এবারের ঈদে সড়কে দুর্ঘটনার শিকার ২০৯ চালক, ২৪ পরিবহন শ্রমিক, ৮৮ পথচারী, ৬২ নারী, ৩৫ শিশু, ৩৩ শিক্ষার্থী, দুই সাংবাদিক, আট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, দুই শিক্ষক, ছয় জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, দুই জন মুক্তিযোদ্ধা ও একজন চিকিৎসকের পরিচয় মিলেছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট যানবাহনের ৩৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ কার-মাইক্রো-জিপ, ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর-লেগুনা-মাহিন্দ্র, ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ অটোরিকশা, ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক-ভ্যান-সাইকেল এবং ১৭ দশমিক ৯০ শতাংশ বাস এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।  

দুর্ঘটনার ২০ দশমিক ৯৬ শতাংশ মুখোমুখি, ৪২ দশমিক ৪৭ শতাংশ পথচারীকে চাপা, ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ অজ্ঞাত কারণে, ১ দশমিক ০৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ০ দশমিক ২৬ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরে, ২ দশমিক ৪১ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় মহাসড়কে ঈদযাত্রার বহরে মোটরসাইকেলের ব্যাপক ব্যবহার; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকায় হঠাৎ ঈদে যাতায়াতকারী ব্যক্তিগত যানের চালকদের রাতে এসব সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালানো; জাতীয়, আঞ্চলিক ও ফিডার রোডে টার্নিং চিহ্ন না থাকার ফলে নতুন চালকরা এসব সড়কে দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে; মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা; উল্টো পথে যানবাহন চালানো, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও বেপরোয়া যানবাহন চালানো।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. হাদিউজ্জামান, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক লিটন, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুল হক, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেলসহ আরো অনেকে।


   আরও সংবাদ