ঢাকা, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ মাঘ ১৪২৯, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
পড়ার সাথে কর্মের মিল নেই

শিক্ষায় অসঙ্গতি (পর্ব-২)



শিক্ষায় অসঙ্গতি (পর্ব-২)

আমরা কি পড়ছি? ১৮ বছরের শিক্ষাজীবনে আমরা ক্লাসে কি শিখছি? চাকরীর পরীক্ষায় আমরা কি দেখছি? পড়ালেখার সাথে চাকরির পরীক্ষার তেমন মিল না থাকায় দেশে বেকারত্ব ক্রমশ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা বাসা বাধছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন একেকটি বিজনেস কোম্পানী। আর স্টুডেন্ট হলো তার উৎপাদিত প্রোডাক্ট। প্রত্যেক বছর এ কোম্পানী থেকে লাখ লাখ এ প্লাস নামক প্রোডাক্ট বাজারজাত করা হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় এখান থেকে কোন জ্ঞানীগুনি বের হচ্ছে না। এদেরকে প্রেসার ক্রিয়েট করে এ প্লাস পাওয়ানো হচ্ছে। এ প্লাসটা এমন অবস্থানে এসেছে যা দিয়ে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা মাপা যায় না। এ প্লাসটা এখন পরীক্ষার খাতা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। সর্বোচ্চ সার্টিফিকেট পাওয়া পর্যন্ত। জীবনে বা কর্মক্ষেত্রে এ প্লাস কোন কাজে আসছে না। এভাবে চলতে থাকলে জাতী খুব দ্রুত মেধা শূণ্য হয়ে পড়বে। বেচে থাকবে শুধু এ প্লাস। এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের চাকরির মতো করে প্রশ্ন করে দেখুন। কর্মমূখী প্রশ্ন করে দেখুন। দেখবেন এ প্লাসের সাথে মেধার কোন মিল নেই।

পাঠ্য বইয়ে সাধারণ জ্ঞান নেই। চাকরির পরীক্ষায় আসছে অধিকাংশ সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন। শিক্ষাজীবনে কম্পিউটারের মিনিমাম সার্টিফিকেট কোর্স পাওয়া যায় না। অথচ চাকরীর পরীক্ষায় চাওয়া হচ্ছে কম্পিউটারে প্রশিক্ষিত প্রার্থী। সাধারণ জ্ঞান বা কম্পিউটারের ওপর যেহেতু চাকরির পরীক্ষা নেওয়া হয় তাহলে শিক্ষী জীবনে এসব বিষয় পাঠ্য নেই কেন? মানবিক বা বিজ্ঞানের শিক্ষর্থী ব্যাংকার হচ্ছে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী প্যারামেডিক ডাক্তার হচ্ছে। তাহলে শিক্ষাব্যবস্থায় বিভাগ রাখা হচ্ছে কেন?

লেখক- রেজাউল করিমলেখক- রেজাউল করিম

চাকরিতে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে কম্পিউটার জানা আছে কিনা। কাজের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে কিনা। যদি চাকরি করতে এগুলো লাগবে তাহলে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমূখী শিক্ষা না শিখিয়ে কেন শেখানো হচ্ছে স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব কে ছিলেন? কেন শেখানো হচ্ছে এ প্লাস বি হোল স্কয়ারের সূত্র? এসব পড়ে শিক্ষার্থীদের মগজ নামের মেমোরিটা জ্যাম হয়ে যাচ্ছে। অসংখ্য যুবক আজ চাকরি না পেয়ে রাস্তায় বসে আছে বেকারত্বের কারণগুলো হিসেব করছে।

এসব জেনে চাকরি পাওয়া যায় না। চাকরি পাওয়ার জন্য প্রয়োজন কর্মবিদ্যা। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব আছে। সেখানে কি শেখানো হয়? সাদা চাদরে দিনের পর দিন ঢেকে রাখা হচ্ছে কম্পিউটারগুলো। দিনের পর দিন চলে যাচ্ছে কম্পিউটার অন অপ শেখাতে। নিজে থেকে কিছু শিখতে চাইলে বলা হয় কম্পিউটার হ্যাং হয়ে যাবে। পাঠ্য বইয়ের কথা বলবেন? যেখানে শিক্ষার্থীর মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বের করতে পারে না তাই বইয়ে এইচটিএমএল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যা শেখানো হয় আর চাকরিতে যা চাওয়া হয় তা সম্পূর্ণ আলাদা। সার্টিফিকেট অর্জনের পর যদি চাকরির জন্য নতুন করে পড়তে হয় তাহলে নতুন বিষয়গুলো কেন শিক্ষাজীবনে পড়ানো হচ্ছে না? একজন শিক্ষার্থীকে কেন কর্মশালার মাধ্যমে চাকরির পূর্ব অভিজ্ঞতা দেওয়া হচ্ছে না? 

পড়ালেখা করানো হচ্ছে সৃজনশীল পদ্ধতিতে। অথচ চাকরীর পরীক্ষায় নেওয়া হচ্ছে নৈর্ব্যত্তিক পদ্ধতিতে। সৃজনশীল পরীক্ষায় জ্ঞান যাচাই করা হয়। চাকরির পরীক্ষায় নকআউট করা হয়। শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে পড়ালেখা করছে অথচ সৃজনশীল কোন কর্মক্ষেত্র পাচ্ছে না। শিক্ষাপদ্ধতিকে কর্মমূখী শিক্ষায় রুপান্তরিত করাটা জরুরী। যে বিষয়ে শিক্ষার্থী পড়ালেখা করবে, তার কর্ম ব্যবস্থা থাকবে সেই অনুযায়ী। সেই শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

লেখক- রেজাউল করিম (সংবাদকর্মী)
পরিচালক- ইমপ্রুভ শিক্ষা পরিবার। 
পাথরাইল, দেলদুয়ার,টাঙ্গাইল।


   আরও সংবাদ