ঢাকা, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ মাঘ ১৪২৯, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘সরকার ট্রেপে পড়েছে’



‘সরকার ট্রেপে পড়েছে’

সরকার ট্রেপে পড়েছে মন্তব্য করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেছেন, সরকারকে যে বুদ্ধি পরামর্শ দেয়ার কথা ছিলো তা দেয়া হয়নি। বুধবার ‘নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবনে চ্যালেঞ্জ’শীর্ষক নগর সংলাপের আয়োজন করা হয়। রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলো নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম। সেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক।

ক্যাব সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছিলো তখন বিদ্যুতের অনেক ঘাটতি ছিলো। ঘাটতি কমাতে দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধিতে মনযোগ দেয় সরকার। তখন রেন্টেল এবং কুয়িক রেন্টেলে গিয়েছে সরকার। তখনকার জন্য এই পদক্ষেপ ছিলো যুগান্তকারী। কিন্তু এখন সেটা ভালো না। সংকট কেটে যাওয়ার পরও সরকার রেনেটেল, কুয়িক রেন্টেলে দাঁড়িয়ে আছে। অথচ কথা ছিলো তিন এবং ৫ বছর পর স্থায়ী উৎপাদনে যাবে। দরকার ছিলো বড় ধরণের উৎপাদন বাড়ানো। কিন্তু এখনো রেন্টেলে আটকে আছে। সরকার ট্রেপে পড়েছে। সরকারকে যে বুদ্ধি পরামর্শ দেয়ার কথা ছিলো তা দেয়া হয়নি। ২০০৬ এবং ০৭ সালে (বিএনপির আমল) বিদ্যুৎ আসতো আর যেতো। এখন (আওয়ামী লীগের আমল) আবার ঠিক তেমনই হচ্ছে। আমরা আবার সেই আমলে ফিরে গেছি। যেখানে ছিলাম এখন আবার সেখানেই আছি।

গোলাম রহমান বলেন, গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে কোনো সরকার পদক্ষেপ নেয়নি। ভোক্তাদের জ্বালানি তহবিলে বিনিয়োগের অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দিয়ে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে। অথচ এই তহবিলের টাকা ছিলো গ্যাসক্ষত্র অনুসন্ধানের জন্য। যারা এই কাজ করেছেন তাদের দূরদর্শিতার অভাব ছিলো। এখন উন্নয়নের চেয়ে কর্মসংস্থান এবং মানুষের আয় উন্নতির দিকে মনযোগী হতে হবে।

জ্বালানি সংকট নিরসনে পরামর্শ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, দেশের চলমান সংকট কাটাতে হলে রপ্তানি বাড়াতে হবে। রপ্তানি বাড়াতে কি কি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বা হচ্ছে তা জনগণকে জানানো উচিৎ। কারণ জনগণের মাঝে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। জনগণ হাতাশায় আছে। এই হতাশা কাটাতে সরকারের নেয়া পরিকল্পনাগুলো জনগণকে জানানো উচিৎ। রুমানা হক বলেন, স্বাধীনতার এতো বছর পরও কেনো আমাদেরকে গার্মেন্টস সেক্টরের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে? রপ্তানি খাত হিসেবে কেনো শুধুমাত্র পোশাক খাতই এগিয়ে থাকবে? আমরা কেনো অন্যান্য খাতে নজর দিতে পারি না? আমাদেরকে অন্যান্য খাতে দৃষ্টি বাড়াতে হবে।

অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, সরকার অনেক ভালো ভালো পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়ণে মনিটরিং করতে পারছে না। দেখা গেছে তেলের দাম বাড়ে ১০ টাকা কিন্তু পরিবহণের ভাড়া বাড়ে দ্বিগুন থেকে তিনগুন পর্যন্ত। ফলে সরকারের নেয়া পরিকল্পনাগুলো কাজে আসছে না। মনিটরিং ভালোভাবে করা দরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিয়াজুল হক বলেন, সম্প্রতি সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় সবধরণের কৃষিপন্যের দাম বাড়বে। খরচ বাড়ায় মানুষ এখন যেসব পন্যে অধিক লাভ পাওয়া যাবে সেসব পন্য চাষের দিকে ঝুঁকছে। ইতোমধ্যে কয়েক স্থানে ধান চাষ বাদ দিয়ে দিয়েছে অনেকে। তারা এখন বছরে তিনবারই ভুট্টা উৎপাদন করছে। এতে খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরণের সংকট দেখা দিবে। রিয়াজুল হক বলেন, কথায় কথায় আমরা উন্নত দেশের সাথে তুলনা করি। আমাদের দেশের মানুষের আয়ের তুলনা করছি না। উন্নত দেশের মানুষের তুলনায় আমাদের দেশের মানুষের আয়ের তফাৎ অনেক। এখন সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় চিন্তায়-চুরি বেড়ে যাবে। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে নিম্নবিত্তদের জন্য ন্যায্য মূল্যে টিসিবির পন্য দিবে। কিন্তু এর পিছনে ছুটতে গিয়ে অধিক কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। গরিবদের জন্য সরকার নানা উদ্যেগ নিয়েছে। কিন্তু মধ্যবিত্তদের জন্য কিছু করছে না। সরকারকে প্রান্তের জনগণকে রক্ষার পদক্ষেপ নিতে হবে।


   আরও সংবাদ