ঢাকা, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ মাঘ ১৪২৯, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

অধিক ক্রেতায় বিক্রি কম



অধিক ক্রেতায় বিক্রি কম

চালের দাম বাড়ালেই অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

বিশেষজ্ঞ মতামত

সরকার বাড়ালো তেলের দাম, মিল মালিকরা চালের আর সমস্যায় পড়ছি আমরা

ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন

চালের কোনো ঘাটতি নেই, সরকারও চালের দাম বাড়ায়নি

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক

অস্থির চালের বাজার। হাঁসফাঁস ক্রেতা-বিক্রেতা সবার। একসময়ে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ প্রবাদটি বেশ জনপ্রিয় ছিলো। এখন আর সেই পান্তার চাল কিনতেই দিন ফুুরায়। নুন কেনার সয়টুকু আর পাওয়া যায় না। জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে না বাড়তেই বেড়েছে সবধরণের চালের দাম। অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। অস্থিরতার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এমন দাবি খোদ ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন ক্রেতার সংখ্যা আগের মতোই আছে। তবে কমেছে বিক্রির পরিমান। 

চালের বস্তার উপর মাথা রেখে গভির চিন্তায় নিমজ্জিত। দেখেই মনে হচ্ছে বেশ ক্লান্ত। চালের দাম কতো? ভাই চাল কত করে বিক্রি করছেন? দুইবার ডাকার পর শুনতে ফেলেন। পাল্টা জিজ্ঞেস করলেন চাল নিবেন? কত কেজি নিবেন? এই শরিফ উনাকে চাল দে। না ভাই চাল নিবো না দাম জিজ্ঞেস করছি। কত করে বিক্রি করছেন? নিবেন না, তাহলে দাম বলতে পারবো না। চার্ট দেখে নেন বলেই নিচ থেকে একটা মূল্য তালিকা লাগিয়ে দিলেন দোকানে। এতো উত্তেজিত কেনো জানতে চাইলে কাওরানবাজারের বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের পরিচালক বিল্লালের বড় ছেলে আরিফ বলেন, সকাল থেকে একের পর এক দাম বলেই যাচ্ছি। এ পর্যন্ত কতোজন যে আসলো আর গেলো, কিন্তু চাল বিক্রি করতে পারছি না। আরিফ জানান, কিছুক্ষণ আগে মেজিস্ট্রেট এসেছিলেন। তাদেরকে চালান থেকে শুরু করে সবধরণের কাগজ পত্র খুঁজে বের করে দেখাতে হয়েছে। কাগজ খুঁজতে খুঁজতে ঘাম বের হয়ে গেছে। সবকিছু ঠিকঠাক দেখে জরিমানা ছাড়াই চলে গেছে মেজিস্ট্রেট। এরপর একের পর এক সাংবাদিকরা আসতেছে দাম জিজ্ঞেস করতে। সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে, মিল মালিকরা চালের আর সমস্যায় পড়ছি আমরা।

দেকানে টাঙানো মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৬৮-৭০ টাকা, আটাইশ ৫৫-৫৮ টাকা, নাজির সাইল ৭৬-৮০ টাকা, চিনিগুড়া পোলাও চাল ১১০-১১৫ টাকা, কালি জিরা পোলাও চাল ১১০-১২০ টাকা, মোটা চাল ৪৫ টাকা, নাজির চাল ৮৮ টাকা, বাসমতি ৮৬-৯০ টাকা, পাইজাম ৫২-৫৪ টাকা এবং কাটারি আতব বিক্রি হচ্ছে ৭৪-৭৮ টাকায়।

বরিশাল রাইস এজেন্সির পরিচালক মো. শফিক দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, প্রতিদিন খুচরা চাল বিক্রি করতাম ৫ থেকে ৬ বস্তা। এখন তিন থেকে সাড়ে তিন বস্তা বিক্রি করতে পারি। তবে ক্রেতার সংখ্যা আগের মতোই আছে। আগে ৫-১০ কেজির নিচে চাল কেনার লোকের সংখ্যা তেমন একটা ছিলো না। এখন এই সংখ্যাটা বাড়ছে। সবাই কম কম চাল কিনছেন। যে কারণে ক্রেতা থাকার পরও চাল বিক্রি কম। এখন ক্রেতার ক্রেতার পাশাপাশি বাজার যাচাই করার লোক বেশি আসে।

কাওরানবাজারের ফাতেমা রাইস এজেন্সীর সত্তাধিকারী আল হাসিব বলেন, আগের মতো এখন আর চাল কিনছি না। মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। সবমিলিয়ে আমাদের হিসেবটা জটিল হয়ে যাচ্ছে। মিল মালিকরা আমাদের কাছে চাহিদা চায়, কিন্তু আগের মতো চাহিদা দিচ্ছি না। এখন ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম। ৫ কেজি চাল বিক্রি করতে হলে ১০টা কথা বলতে হয় একজন ক্রেতার সাথে। আগে ৫ বস্তা চাল বিক্রি করতেও এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো না এখন এক বস্তায় যতো উত্তর দিতে হয়। কেনো দাম বাড়ছে, আপনার দাম বেশি রাখতেছেন, আমরা কি না খেয়ে থাকবো নাকি এমন কতো প্রশ্ন যে শুনতে হয় আমাদের। আমরাও এখন নিরুপায়। আগে ১ লাখ টাকায় যে পরিমান লাভ করতে পারতাম এখন সেখানে দেড়লাখ টাকায়ও হচ্ছে না। ব্যবসায় মূলধন বাড়ছে কিন্তু আয় কমছে।

রাজধানীর শ্যাম বাজারের আব্দুল বাতেন ট্রেডার্স। দোকানের মালিক কামাল হোসেন জানান, মিনিকেট চালের পাইকারি দাম ছিল বস্তা প্রতি ৩ হাজার ১০০ টাকা। এখন কিনতে হয় ৩ হাজার ৩০০ টাকায়। তাছাড়া পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। প্রতি বস্তায় বাড়তি পরিবহন ব্যয় গুনতে হয় ১৪ থেকে ১৫ টাকা। এছাড়াও সব ধরনের চাল পাইকারিতে কেজি প্রতি বেড়েছে ৮ টাকা পর্যন্ত। তিনি বলেন, যেভাবে দাম বাড়ছে, এখন লাভ করাটা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। লাভের টাকায় দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল এবং কর্মচারীরর মজুরি দিতে দিতে পকেট খালি হয়ে যায়।

চালের বাজারের অস্থিরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, দেশে চালের কোনো সংকট নেই। চাল যথেষ্ট পরিমান মজুদ রয়েছে। অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ দাম বাড়ালেই অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি কোনো সিন্ডিকেট এর পিছনে দ্বায়ি থাকে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চালের কোনো ঘাটতি নেই। আর সরকারও চালের দাম বাড়ায়নি। যারা চালের বাজার অস্থিতিশীল করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।বাড়ায়নি- কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক


   আরও সংবাদ