ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩৩, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ জোর



মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ জোর

ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস, মহাকাশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, ওষুধ, উৎপাদন, বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সেবা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং খুচরা ব্যবসাসহ ১০টি খাতের ৯৪৯টি পেশা নিয়ে ওই গবেষণা করা হয়েছে।

সরকারের আরেকটি লক্ষ্য হলো ‘মালয়েশিয়া ডিজিটাল ২০৩০’ কর্মপরিকল্পনার আওতায় ৭ লাখ কর্মীকে নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা। এজন্য ‘জেলাজাহ এআই মাইমাহির’-এর মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এআই কর্মক্ষেত্রের ধরন বদলে দেবে এমন আশঙ্কা থাকলেও সরকার বলছে, লক্ষ্য শুধু মানুষের জায়গায় যন্ত্র বসানো নয়। বরং প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কর্মীদের নতুন দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা।

ট্যালেন্টকর্প সতর্ক করেছে, পুনঃদক্ষতা ও দক্ষতা উন্নয়নের কার্যক্রম জোরদার না করা হলে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে লাখ লাখ মালয়েশীয় কর্মী উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হতে পারেন।

এ কারণে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য ব্যবহারিক এআই প্রশিক্ষণ চালু করা হচ্ছে। সরকারের বার্তাটি মূলত ‘এআই আপনার চাকরি নিয়ে নেবে’ এমন নয়; বরং ‘আপনার চাকরির ধরন বদলাতে পারে, তাই এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা অর্জন করুন।’ এ লক্ষ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে ডিজিটালভাবে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়া সরকার এরই মধ্যে ‘রাকইয়াত ডিজিটাল’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে ডিজিটাল ও এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর আওতায় সৃজনশীল এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও ক্লাউড প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স রয়েছে।

এছাড়া ‘এআই উনতুক রাকইয়াত’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১ লাখ মালয়েশীয় তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিটি ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে চালু হয়েছে।

নির্ধারিত সব মডিউল সফলভাবে শেষ ও পাস করা অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচিত এআই অ্যাপ্লিকেশন ও সফটওয়্যারের একটি প্যাকেজে তিন মাসের বিনামূল্যের সাবস্ক্রিপশন পাবেন।

সরকারি সেবা ও চাকরির পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকদের সহায়তা, কৃষিতে জমি ও ফসল পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় নিয়মিত কাজ সহজ করার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

তবে প্রযুক্তির প্রসারের পাশাপাশি এআইয়ের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ২৮ জুলাই ২০২৬ প্রতিষ্ঠিত ‘এআই মালয়েশিয়া বেরহাদ’ দেশটির জাতীয় এআই সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। এ সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে এআই নীতি প্রণয়ন, জাতীয় এআই কর্মসূচি বাস্তবায়ন, এআই ব্যবস্থাপনা ও তদারকি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ‘মালয়েশিয়া এআই সেফটি ইনস্টিটিউট’ পরিচালনা।

যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল বলেছেন, এআই গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও নৈতিকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া ‘এআই জাতি’ হয়ে উঠলে সাধারণ মানুষের জন্য আলাদা কোনো নতুন সরকারি সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে এমন নয়। বরং এর অর্থ হলো, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আরও বড় অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হবে।

সরকারি সেবা গ্রহণ, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা পরিচালনা সব ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত কর্মবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হবে।

অর্থাৎ মালয়েশিয়ার ‘এআই জাতি’ হওয়ার পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ নয়; বরং এমন একটি সমাজ তৈরি করা, যেখানে মানুষ এআইয়ের সঙ্গে কাজ করতে, শিখতে এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।


   আরও সংবাদ