ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩২, ১০ রমজান ১৪৪৭

'যে কারণে ব্যর্থ হবেন অর্থমন্ত্রী'

অর্থনীতি বিশ্লেষক মাজেদুল হকের খোলা চিঠি

'যে কারণে ব্যর্থ হবেন অর্থমন্ত্রী'

আপনি একজন ব্যবসায়ী হয়ে কোন সাহসে অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেন সেটা আমাদের অজানা। সম্ভবত আল্লাহতালা আপনার বিশেষ গুণাবলী দিয়ে পাঠিয়েছে। এজন্য এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আপনি কোন সাহসে একটা ব্যবসায়ীকে গভর্নর বানিয়েছেন সেটাও আমাদের অজানা।

আপনাদের দুজনকে বিশ্বব্যাংক এবং আই এম এফ প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হতে হবে প্রায় সময়। তাদের কথার ভিতরে প্রায় সময় ম্যাক্রোকোনমিক্স এর টার্ম ব্যবহার হবে। আপনি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যদি অর্থনীতির শব্দগুলো গুলো হঠাৎ করে না বুঝতে পারেন কিভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত দিবেন। আগে একজন হিসাববিদ অর্থমন্ত্রী বসেছিল। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা তাকে নিয়ে সমালোচনা করত। এখন আপনাদেরকে নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে  যেভাবে আপনি বিদায় দিলেন, এটা কি একটা ভালো অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব হতে পারে। আপনাদের সিদ্ধান্তে সারা বিশ্ব হাসাহাসি করেছে। 

আপনি তো বাংলাদেশ ব্যাংকের সুশাসন ভেঙে দিয়েছেন নিজেই। সেখানে রাজনৈতিকভাবে মব সৃষ্টি করা হয়েছে। আপনি কিভাবে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করবেন। আপনি উত্তরাধিকার সূত্রে ঋণ নির্ভর অর্থনীতি পেয়েছেন। আপনার রাজস্ব আয় এর থেকে পরিচালন ব্যয় বেশি। কোন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর যখন সরকারের কাছের লোক হয় তখন তাকে টাকা ছাপাতে হয়। সারা পৃথিবীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের সরকার চাপ দিয়ে থাকে প্রতিনিয়ত। নিজেদের লোক বসিয়েছেন এর মানে টাকা ছাপাবেন। সামনে মূল্য স্থিতি হু হু করে বেড়ে যাবে। জনগণ যখন আয় থেকে ব্যয় বেশি করবে তখন রাস্তায় নেমে আসবে। আপনাদের বাসভবন ঘেরাও করবে। 

যে গভর্নর কে তাড়িয়ে দিছেন সেই গভর্নর রিজার্ভকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করেছিল। রিজার্ভ একটা দেশের অর্থনীতির শক্তি। রিজার্ভের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রয়োজন হয়। আপনি যে গভর্নর নির্বাচন করেছেন সেই গভর্নরের কি তাত্ত্বিক জ্ঞান রয়েছে? আপনারও কি তাত্ত্বিক জ্ঞান রয়েছে? তাহলে কিভাবে সামাল দিবেন। যখন আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে পারবেন না যখন ওষুধ আমদানি করতে পারবেন না ডিজেল আমদানি করতে পারবেন না তখন তো শ্রীলঙ্কার মত মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে বাড়িঘর ঘেরাও করবে। এদেশের মানুষ বুঝে গেছে আপনাদের উদ্দেশ্য। যখন মব সৃষ্টি করে গভর্নরকে বিদায় দিলেন তখন জনগণ সরকার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। 

কিছু বিদেশী রাষ্ট্রদূত এক সিনিয়র অর্থনীতিবিদকে টেলিফোন করে বলেছে আপনার ব্যবসায়িক গভর্নরের হাতে কিভাবে মাইক্রোকনমিক স্টেবিলিটি আসবে। তারা বলেছে আপনাদের সরকার কতদিন থাকবে। যাহোক আপনাদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ভাব ভর্তি আপনারা কিভাবে উদ্ধার করবেন। অর্থনীতি আবেগ দিয়ে চালানো যায় না। মামা খালু কে ডেকে নিয়ে চেয়ারে বসালেই অর্থনীতি পরিচালনা করা যায় না। অর্থনীতি পরিচালনার জন্য পেশাদারিত্ব মানুষ দরকার হয়। আপনি যেখানে কেন্দ্র ব্যাংক দলীয় প্রভাব মুক্ত করতে পারেন নাই সেখানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং বিভাগ কিভাবে বন্ধ করবেন। যাহোক বহুদিন পরে ক্ষমতায় এসে নিজেদের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরে দিলেন। বিদেশি রাষ্ট্রদূত্ সেটাই বলেছে। 

১৮ মাস ধরে জনগণ চেয়েছিল ব্যাংক খাতের দিকে। সেই ব্যাংক খাত আপনার হাত ধরেই কালো অধ্যায় শুরু হলো। জনগণ নিয়মিত অবজার্ভ করছে আপনার কার্যক্রম। এখনো সময় আছে ভুলগুলো সংশোধন করে নেন। যেখানে একটা দেশের কেন্দ্র ব্যাংক রাজনীতিকরণ হয়ে যায় সেখানে অর্থনীতি বেঁচে থাকে না। আপনার হাতে অর্থনীতি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা অপেক্ষা করছি শেষটা দেখার জন্য। ভালো থাকবেন।


   আরও সংবাদ