ব্যাংক হিসাব কিংবা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড না থাকলেও এখন সহজেই কেনা যাবে বিভিন্ন ডিজিটাল পণ্য ও সেবা। হাতের মুঠোফোনে থাকা রিচার্জকৃত ব্যালান্স (এয়ারটাইম) ব্যবহার করেই অনলাইনে কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকেরা। সম্প্রতি এই লেনদেনের সীমা কয়েকগুণ বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মুঠোফোন গ্রাহকেরা এখন থেকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারবেন।
‘ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং’ (ডিওবি) নামে পরিচিত এই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর মোবাইলের রিচার্জকৃত টাকাই ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। মূলত যাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, তাঁদের জন্য ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়ার এটি একটি অত্যন্ত সহজ ও কার্যকর মাধ্যম।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এই সেবায় শুরুতে প্রতি মাসে মাত্র ৬০০ টাকা এবং বছরে ৩ হাজার টাকা খরচের সুযোগ ছিল। গ্রাহকচাহিদা ও সময়ের প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ এবং বিটিআরসির যৌথ পর্যালোচনার পর ধাপে ধাপে এই সীমা বাড়ানো হয়েছে।
ডিওবি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন, গেমিং, মিউজিক, সরকারি ফি পরিশোধ ও বিভিন্ন লাইফস্টাইলভিত্তিক সেবা গ্রহণ করা যাচ্ছে। এমনকি গ্রামীণফোনসহ অন্যান্য অপারেটরের মাধ্যমে শিখো, সুখী, নেটফ্লিক্স, চরকি, আইস্ক্রিন, দীপ্ত প্লে, কিংবা প্রত্যয়ন প্ল্যাটফর্মের সরকারি ফি সহজেই পরিশোধ করছেন গ্রাহকেরা। এর পাশাপাশি সম্প্রতি ডিওবির মাধ্যমে এককালীন বা কিস্তিতে স্মার্টফোন, সিমভিত্তিক মডেম ও রাউটার কেনার সুযোগও উন্মুক্ত করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সাল থেকে দেশে ডিওবির ব্যবহার দ্রুত গতিতে বাড়ছে। মোবাইল অপারেটরগুলোর হিসাব মতে, ২০২৫ সালে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকেরা প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০ কোটি টাকা খরচ করেছেন, যার একটি বড় অংশ গেছে নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে। লেনদেনসীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৬ সালে এর মাধ্যমে মোট খরচ ২২০ থেকে ২৫০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের পর ইতোমধ্যে গ্রামীণফোন এই বর্ধিত সীমা কার্যকর করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করেছে। বাকি তিন অপারেটর—রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা চালুর বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন রয়েছে। বিটিআরসিতে নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব শিগগিরই অন্য অপারেটরগুলোর গ্রাহকেরাও এই সেবা উপভোগ করতে পারবেন। তবে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি জুয়া, ক্রিপ্টোকারেন্সি, লটারি বা ভার্চ্যুয়াল কারেন্সি লেনদেনের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অপারেটরদের ওপর বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।