ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩৩, ১১ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

পড়তেও পারেন না, লিখতেও পারেন না: তবুও কোরআনের হাফেজা সানা!



পড়তেও পারেন না, লিখতেও পারেন না: তবুও কোরআনের হাফেজা সানা!

শিক্ষা কিংবা বর্ণমালার সঙ্গে কখনোই পরিচয় ছিল না তার। পড়তে বা লিখতেও জানেন না তিনি। তবে ছোটবেলা থেকেই রেডিওতে ভেসে আসা কোরআন তিলাওয়াত শুনে শুনেই তৈরি হয়েছিল গভীর অনুরাগ। সেই সুগভীর ভালোবাসা ও অদম্য সংকল্পকে সম্বল করে দীর্ঘ সাধনার পর ৭১ বছর বয়সে এসে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন মিশরের সানা আবদেল সাত্তার।

মিশরের মনুফিয়া প্রদেশের শোহাদা এলাকার মিত শাহালা গ্রামের বাসিন্দা সানা। ভারতীয় উর্দু সংবাদমাধ্যম ‘ইউএনএ নিউজ’ এবং মিসরীয় সংবাদমাধ্যম ‘মাসরাওয়ি’-এর প্রতিবেদনে তার এই অনন্য ও অনুপ্রেরণাদায়ী অর্জনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যান্য হাফেজদের মতো দেখে দেখে বা গ্রন্থ পড়ে কোরআন মুখস্থ করার সুযোগ সানার ছিল না। শৈশবে রেডিওর তিলাওয়াত শুনেই কোরআনের প্রতি তার অনুরাগের জন্ম। পরবর্তীতে জীবনসংগ্রাম ও নিরক্ষরতার মাঝেও রেডিও শুনে শুনে, স্মৃতির পাতায় ধরে রেখে এবং বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে পুরো পবিত্র কোরআন তিনি নিজের বুকে ধারণ করেন।

সানার কোরআন হিফজের এই যাত্রা একেবারেই সহজ ছিল না। জীবনের বিশের কোঠার প্রারম্ভে তিনি হিফজের উদ্যোগ নেন। কিন্তু বিয়ের পর সংসার সামলানো, তিন সন্তানকে বড় করে তোলাসহ পরিবারের নানা দায়-দায়িত্বের কারণে তার এই প্রয়াস বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবুও কখনো দমে যাননি তিনি; নিজের সংকল্পে অটল থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন।

৭১ বছর বয়সে পুরো কোরআন মুখস্থ শেষ করার পর সানা থেমে থাকেননি। নিয়মিত এটি চর্চায় রাখছেন তিনি। বর্তমানে কোনো ভুল ছাড়া স্মৃতি সতেজ রাখতে তিনি প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ পারা করে কোরআন তিলাওয়াত ও পুনরাবৃত্তি করছেন। ইচ্ছাশক্তি ও নিরবচ্ছিন্ন ভালোবাসার কাছে বয়স বা নিরক্ষরতা যে কোনো বাধা নয়—সানা আবদেল সাত্তার যেন তারই এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

---


   আরও সংবাদ