ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩২, ৭ রমজান ১৪৪৭

রাজসাক্ষী বিতর্কে প্রসিকিউটরদের ঘুষ নেওয়ার দাবি অযৌক্তিক: ডেবিড বার্গম্যান



রাজসাক্ষী বিতর্কে প্রসিকিউটরদের ঘুষ নেওয়ার দাবি অযৌক্তিক: ডেবিড বার্গম্যান

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ কর্তৃক ‘রাজসাক্ষী’ নিয়োগ নিয়ে তোলা দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি দীর্ঘ বিশ্লেষণধর্মী ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। তার মতে, জটিল মামলায় দণ্ড নিশ্চিত করতে অপরাধের সহযোগীদের রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং এটি প্রসিকিউশনের একটি বড় সাফল্য।

মামলার জট খুলতে ‘রাজস্বাক্ষীর’ সাক্ষ্যের গুরুত্ব

ডেভিড বার্গম্যান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ দাবি করেছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়েছে। বার্গম্যান এই দাবির সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, "সাবেক আইজিপি মামুনের সাক্ষ্য ছাড়া শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মামলাটি অনেক দুর্বল হয়ে পড়ত। কারণ সেক্ষেত্রে প্রসিকিউশনকে মূলত একটি আড়িপাতা ফোন কল রেকর্ডের ওপর নির্ভর করতে হতো।"

প্রথাগত বিচার ব্যবস্থার অংশ

বার্গম্যান মনে করিয়ে দেন যে, রাজসাক্ষী নিয়োগের এই বিধান অপরাধ বিচার ব্যবস্থার একটি দীর্ঘস্থায়ী বৈশিষ্ট্য। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও জটিল মামলায় মূল হোতাদের সাজা দিতে অনেক সময় কম অপরাধী ব্যক্তিদের ক্ষমা বা দণ্ড কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি কোনো অনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং বড় অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার একটি ‘বাস্তবসম্মত প্রয়োজনীয়তা’।

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের তোলা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন তুলেছেন বার্গম্যান। তিনি বলেন, সাধারণত প্রসিকিউটররা আসামিদের রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করেন। যদি এখানে কোনো অনৈতিক আর্থিক সুবিধা বা ঘুষের লেনদেন হয়েও থাকে, তবে তা সাক্ষীর পাওয়ার কথা, প্রসিকিউটরের নয়। তাই প্রসিকিউটররা টাকা নিয়েছেন এমন অভিযোগটি বার্গম্যানের কাছে আপাতদৃষ্টিতে অমূলক মনে হয়েছে।

সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা ও বিচারকের ভূমিকা

বার্গম্যান আরও যোগ করেন যে, রাজসাক্ষীর জবানবন্দি সবসময়ই কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। আসামীপক্ষের আইনজীবীরা সবসময়ই এসব সাক্ষীর মোটিভ নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন, যা একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। তবে সাক্ষীর বক্তব্যের সত্যতা এবং অন্যান্য প্রমাণের সাথে তার সামঞ্জস্য বিচার করার চূড়ান্ত দায়িত্ব বিচারকদের।

সতর্ক হওয়ার আহ্বান

ডেভিড বার্গম্যান তার বিশ্লেষণের শেষে বলেন, যেহেতু একটি অভিযোগ উঠেছে, তাই এর তদন্ত হওয়া উচিত। তবে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়া আইসিটির মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেখা প্রয়োজন।


   আরও সংবাদ