ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ফের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ওয়াশিংটন আবারও সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নিলে ইরান আগের চেয়েও শক্তিশালী ও কঠোর জবাব দেবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ রোববার বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক সমাবেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের শত্রুরা আবার সামরিক সংঘাতের পথ বেছে নিলে জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোর হবে। আমরা আরও বেশি শক্তি দিয়ে নিজেদের রক্ষা করব।"
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান সম্ভব নয়। এমনকি নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও এই সংঘাত নিরসন করা যাবে না। কেবল ন্যায্যতার ভিত্তিতে চালানো কূটনৈতিক আলোচনাই সংকট অবসানের একমাত্র পথ।
অচলাবস্থায় আলোচনা ও 'হরমুজ প্রণালি' সংকট
দুই দেশের সংঘাত গড়াচ্ছে সপ্তম মাসে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের মোড় ঘুরে এখন মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালি’। অতি সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হলেও তা কোনো সুফল আনতে পারেনি।
ওই পরোক্ষ আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে সাতটি শর্ত দেয় ইরান। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে আটক থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ-অবরোধের সমাপ্তি। তবে ওয়াশিংটন তেহরানের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন প্রশাসন আলোচনার টেবিলে ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ফের যুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে তেহরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।
গত জুনে দুই পক্ষ ৬০ দিনের এক যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারকে সম্মত হলেও নির্ধারিত সময়ে অগ্রগতি না হওয়ায় তা ভেঙে পড়ে। বর্তমানে সেপ্টেম্বরের পর সরাসরি নতুন কোনো বড় হামলা না হলেও, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি ফের বৃদ্ধি করায় ওই অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।